আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

খামেনি ও তার ছেলেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প

আমার দেশ অনলাইন

খামেনি ও তার ছেলেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেহরান যদি স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধের নিশ্চয়তা না দেয়, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার ছেলে মোজতাবা খামেনি–সহ ধর্মীয় নেতৃত্বকে অপসারণের মতো কঠোর বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেন্টাগন সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর কাছে একাধিক কৌশলগত প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ আছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা জানান, প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে। আরেকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতা চান যা রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তবে ইরান গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দিলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ইরান যদি স্থায়ীভাবে অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তাহলে সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কূটনৈতিক তৎপরতার একাধিক ধাপ ফলপ্রসূ না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরাইল মনে করছে, সমঝোতার চেয়ে সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও বাহিনী প্রস্তুত থাকলেও এখনো সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন দেননি ট্রাম্প।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনায় উভয় পক্ষ কিছু মৌলিক নীতিতে একমত হয়েছে এবং তেহরান শিগগিরই একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে। তাঁর দাবি, জেনেভা বৈঠকে পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের শর্ত ওয়াশিংটন সরাসরি উত্থাপন করেনি।

আরাগচি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সে কাঠামো নিয়েই আলোচনা চলছে। এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি যুক্ত আছেন। প্রস্তাবের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের মতো কারিগরি পদক্ষেপ থাকতে পারে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সমঝোতার পথে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রস্তাব হতে হবে সুস্পষ্ট ও বিশদ, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাদের কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়। লিখিত প্রস্তাব হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...