নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁ জেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে শুক্রবার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। রাজশাহী বিভাগে এই নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, ওই মৃত রোগী নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারী। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তার শরীরে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়। ২৮ জানুয়ারি তার গলা থেকে শ্লেষ্মা এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ২৯ জানুয়ারি পরীক্ষার ফলাফলে তার শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত এর কিছুদিন পরেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (আইএইচআর এনএফপি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে অবহিত করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই নারীর সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ‘টেরোপাস’ প্রজাতির ফলাহারি বাদুড়। শীতকালে বাদুড় যখন খেজুরের রস সংগ্রহের হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাদের লালা বা মলমূত্রের মাধ্যমে হাঁড়ির রসে ভাইরাস মিশে যায়। সেই কাঁচা রস মানুষ পান করলে সরাসরি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৪৮ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, তাঁদের প্রায় অর্ধেকই সংক্রমিত হয়েছেন কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে। অন্যদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে আসার ফলে ভাইরাস ছড়িয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলা, বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ