আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সিরিয়া–সৌদির মধ্যে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি

আমার দেশ অনলাইন

সিরিয়া–সৌদির মধ্যে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পর অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে সিরিয়া। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সৌদি আরবের সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের একাধিক বিনিয়োগ চুক্তিতে পৌঁছেছে দেশটি। বিমান চলাচল, জ্বালানি, আবাসন ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে যৌথ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার এসব চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় আলেপ্পোতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, সিরিয়া–সৌদি যৌথ উদ্যোগে স্বল্পমূল্যের একটি এয়ারলাইন চালু এবং ‘সিল্কলিংক’ নামে একটি বৃহৎ টেলিযোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক সংযোগ ও যোগাযোগকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দিক থেকেও এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত নতুন নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক হিসেবে সৌদি আরবের ভূমিকা সামনে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় দেশটিতে বড় পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সমঝোতাটি সেই প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ।

সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানান, সদ্য চালু হওয়া ‘এলাফ ফান্ড’ আলেপ্পো শহরের দুটি বিমানবন্দর উন্নয়নে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই তহবিলের মাধ্যমে সৌদি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করে বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসছে। সিরিয়ার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুলসালাম হায়কাল বলেন, এ খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর অংশ হিসেবে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ডিজিটাল যোগাযোগ জোরদার করতে হাজার হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপন করা হবে।

বিমান চলাচল খাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সৌদি বাজেট এয়ারলাইন ফ্লাইনাস ও সিরিয়ান সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মধ্যে যৌথ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ‘ফ্লাইনাস সিরিয়া’ নামে একটি নতুন এয়ারলাইন গঠন করা হবে, যেখানে মালিকানার ৫১ শতাংশ থাকবে সিরিয়ার হাতে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এয়ারলাইনটি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে কার্যক্রম শুরু করবে।

এ ছাড়া সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গে পানি ও জ্বালানি খাতে একটি পৃথক চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পে সুপরিচিত।

তালাল আল-হিলালি বলেন, এসব বিনিয়োগ এমন খাতে করা হচ্ছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলবে এবং সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদে এসব প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি–সিরিয়া চুক্তির প্রশংসা করে বলেন, বিমান চলাচল, অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সিরিয়ার পুনর্গঠনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।

তবে সতর্কতার কথাও উঠে এসেছে। করাম শার অ্যাডভাইজরির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ফেভের মতে, স্বল্পমেয়াদে এসব চুক্তির গুরুত্ব অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে সিরিয়া সরকার বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেও অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তব ও বাধ্যতামূলক চুক্তিতে রূপ নেয়নি।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...