পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা কমাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি ট্রাম্প এমন একটি সময়ে ঘোষণা করলেন, যখন আরবসাগরে তার সেনাবাহিনী ইরানি ড্রোনগুলো গুলি করে ভূপাতিত করছে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ‘এই মুহূর্তে’ ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে, তবে আলোচনা কোথায় হচ্ছে, তা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, আলোচনা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারা আলোচনা করছে, তারা কিছু একটা করতে চায়। এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কিছু করা হচ্ছে কি না।
ট্রাম্প বলেন, কিছুদিন আগে তাদের কিছু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান চালিয়েছিলাম। আমার মনে হয় না তারা এ ঘটনার মুখোমুখি আবারও হতে চায়। গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী হামলা চালিয়েছিল।
মঙ্গলবার ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান নিয়ে আলোচনার জন্য পশ্চিম জেরুজালেমে ইসরালি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় রাজি হওয়ার জন্য তেহরানকে চাপ দিয়ে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয় সম্প্রতি দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বন্ধে দমন-পীড়নের জন্য বারবার দেশটিতে আবারো আক্রমণ করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প উপসাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জাহাজ পাঠিয়েছিলেন। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে ইসরাইল। বলা হয়েছে, যদিও তেহরানের বিরুদ্ধে আবারো হামলা চালানোর বিষয়ে আপত্তি রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
২ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের সঙ্গে ‘সম্ভবত খারাপ কিছু ঘটবে’। তিনি এই অঞ্চলে ‘সবচেয়ে বড় এবং সেরা’ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ পাঠাবেন বলে উল্লেখ করেছেন। একাধিক প্রতিবেদন অনুসারে, সপ্তাহান্তে ইসাইলের যুদ্ধ পরিকল্পনা সম্পর্কে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে অবহিত করেছিলেন।
ড্যান কেইন এবং ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমেরিকার এক কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, আসলে ইসরাইলিরাই ইরানে হামলা চায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মুহুর্তে তা চান না। আরেকজন জ্যেষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাও অ্যাক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প ‘সত্যিই এটা করতে চান না।’
২০২৫ সালের জুনে, ওয়াশিংটনের সমর্থনে ইরানের উপর ১২ দিনের আক্রমণ চালায় ইসরাইল। সেই হামলায় সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। হত্যা করা হয় জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের।
এদিকে, তুরস্কের কর্মকর্তারা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, শুক্রবার ইস্তানম্বুলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের মধ্যে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা এখন ওমানে অনুষ্ঠিত হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ পালন করছে পাকিস্তান
এপস্টেইন ছিলেন মোসাদের এজেন্ট: এফবিআইয়ের তথ্যদাতা