পাকিস্তান, যে দেশটি সন্ত্রাসবাদ ও নড়বড়ে অর্থনীতির জন্য প্রায়শই আন্তর্জাতিক শিরোনামে আসে, সেই দেশই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার আয়োজন করছে। এই আলোচনা এমন এক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাজ করছে, যে যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকা একটি দেশের জন্য এটি একটি বিস্ময়কর পরিবর্তন। এই যুগান্তকারী সাফল্য এটাই তুলে ধরে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক কতটা বদলে গেছে। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান ওয়াশিংটনকে মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় যোগ দিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। ২০১১ সালের পর ভ্যান্সই হলেন পাকিস্তান সফরকারী সর্বোচ্চ পদমর্যাদার মার্কিন কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকেরা এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ভৌগোলিক প্রয়োজনীয়তা, নিপুণ কূটনীতি এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক জোটের সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। সম্মিলিতভাবে এই কারণগুলো পাকিস্তানকে এক অপরিহার্য মধ্যস্থতাকারীতে রূপান্তরিত করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে দেশটির মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত বছর পর্যন্ত পাকিস্তানকে ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এক অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হতো; দেশটি আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি একই সময়ে তালেবানদেরও সমর্থন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন কূটনীতির জগৎকে নাড়িয়ে দিয়েছেন, বন্ধুত্বকে উল্টে দিয়েছেন এবং শত্রুদেরও তার বলয়ে টেনে এনেছেন— যদি তাদের দেওয়ার মতো কিছু থাকে।
সূত্র: সিএনএন
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইসলামাবাদে পৌঁছালেন মার্কিন প্রতিনিধিরা
৭১ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদে ইরান