ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিতে গৃহদাহ

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিতে গৃহদাহ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তিকে কেন্দ্র করে তার নিজের দল রিপাবলিকানের মধ্যেই নতুন করে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কয়েক মাসের ব্যয়বহুল ও অস্বস্তিকর যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা আদায় করতে পেরেছে কি-না, তা নিয়ে ক্যাপিটল হিল ও দলের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তির অনুলিপি প্রকাশ করার পর বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর তীব্র সমালোচনা, সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের বাইরে থাকা দলের পুরনো নেতারাও এই চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের মিত্ররাও উদ্বেগ জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা রোধ করা যায়নি।’

তিনি এই যুদ্ধকে গত কয়েক দশকের মধ্যে ‘সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্র নীতিগত ভুল’ বলে আখ্যা দেন।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পাঁচ মাস আগে ট্রাম্প এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দলের ভেতরে বিভিন্ন মতামতের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এই প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করবে।

তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এতে কোনো বিনিয়োগ করবে না।

টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ তার এক পডকাস্টে প্রশ্ন তোলেন, ‘এই চুক্তি কি ইরানের আয়াতুল্লাহকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে দিচ্ছে? আমি আশা করি এমনটা হবে না।’

তবে তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছেন।

ট্রাম্পের সাবেক তীব্র সমর্থক এবং জর্জিয়ার সাবেক প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিন এই যুদ্ধকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’ বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সাইটে আঘাত করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তবে যে হুমকি আমরা ধ্বংস করেছি, তা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ প্রদান করা একটি বিশাল ভুল।

ডানপন্থি ট্যাবলয়েড ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ তাদের প্রথম পাতায় একটি জ্বলন্ত আমেরিকান পতাকার ছবিসহ লিখেছে, ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করেছিলেন, আর এখন তাদের ‘ক্যাশ এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড়া’ সুবিধা দিচ্ছেন।

তবে ট্রাম্প তার এই সমালোচকদের ‘বোকা ও খারাপ লোক’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন। ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট হতো, কিন্তু সেটি করা ভুল হতো।

রিপাবলিকান দল এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে চায়। কারণ দেশটিতে গত বছরের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম প্রায় এক ডলার বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি সূচক অনুযায়ী, জ্বালানির দাম আগের বছরের চেয়ে ২৩.৫ শতাংশ বেড়েছে। ডেমোক্র্যাটরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুদ্ধকে দায়ী করছে। দোদুল্যমান আসনগুলোর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও দ্রুত যুদ্ধের অবসান চেয়েছিলেন।

অবশ্য অনেক রিপাবলিকান নেতা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর টিম স্কট একে মার্কিন নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘বড় বিজয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। সিনেটর জন কর্নিন এবং লিন্ডসে গ্রাহামও চুক্তির বিষয়ে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন