আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার কিছু অংশে রাজি হামাস, আরো আলোচনার আহ্বান

আতিকুর রহমান নগরী

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার কিছু অংশে রাজি হামাস, আরো আলোচনার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বেশ কিছু অংশ তারা মেনে নিয়েছে হামাস। তবে কিছু বিষয়ে আরো আলোচনা প্রয়োজন। শুক্রবার হামাস তাদের মতামত জানিয়ে দেয় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার ওপর। ট্রাম্প এর আগে সংগঠনটিকে রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন জবাব দেওয়ার জন্য।

বিজ্ঞাপন

এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা সব ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি দিতে রাজি— জীবিত বা মৃতদেহ— ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিনিময় সূত্র অনুযায়ী। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় মাঠ পর্যায়ের শর্তগুলো নিশ্চিত করতে হবে। হামাস আরো জানায়, তারা অবিলম্বে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

সংগঠনটি বলেছে, গাজা উপত্যকার প্রশাসন তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকারের হাতে তুলে দিতে রাজি, যা জাতীয় ঐকমত্য ও আরব-ইসলামি সমর্থনের ভিত্তিতে গঠিত হবে।

তবে গাজার ভবিষ্যৎ ও ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কিত অংশগুলো জাতীয় ঐকমত্য এবং আন্তর্জাতিক আইন ও প্রাসঙ্গিক জাতিসংঘ প্রস্তাবের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে হামাস।

আল জাজিরার সাংবাদিক আলি হাসেম বলেছেন, হামাসের এই অবস্থান আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। তিনি মনে করেন, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব, যেখানে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে হামাসের আপত্তি থাকতে পারে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে গাজার সঙ্গে পশ্চিম তীরকে একত্র করে স্বাধীন ফিলিস্তিন গঠনের কোনো পথ রাখা হয়নি। হাসেমের মতে, এটি গাজাকে আলাদা করে ফেলে এবং হামাস তা মেনে নিতে চাইবে না।

তিনি আরো জানান, বেশিরভাগ আরব ও ইসলামি দেশ বলছে, তারা যে কাগজে সই করেছে তা ট্রাম্প প্রকাশিত পরিকল্পনার থেকে ভিন্ন। হামাসের আপত্তি আসলে আরব ও ইসলামি অবস্থানের সঙ্গেই মিলে যায়।

হামাস আরো জানিয়েছে, এই সংকট সমাধানে আরব, ইসলামি, আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এবং ট্রাম্পের উদ্যোগকে তারা প্রশংসা করছে।

হাসেম বলেন, হামাস ইতিবাচকতা দেখিয়েছে— তারা প্রস্তাবের মূলভাব মেনে নিয়েছে এবং ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে তাদের আপত্তি ও ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এখন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে।

সূত্র: আল জাজিরা

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন