
আমার দেশ অনলাইন


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া একটি নতুন পোস্টে জোর দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে না। সব বিমান ফিরে যাবে নিজ নিজ ঘাঁটিতে, এবং ইরানের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ‘প্লেন ওয়েভ’ দেবে। কেউ আহত হবে না, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে!”
এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরই আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান ও শরঘ পত্রিকা উভয়েই জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী তেহরানে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইসরাইলকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, দেশটির পক্ষ থেকে হামলা চালানো উচিত নয়।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসরাইল। বোমা ফেলো না। যদি তুমি এটা করো তাহলে এটি একটি বড় লঙ্ঘন। তোমার পাইলটদের বাড়িতে নিয়ে এসো, এখনই!
এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, পরবর্তী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান একটি সিদ্ধান্তমূলক, দৃঢ় এবং সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, পরবর্তী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান একটি সিদ্ধান্তমূলক, দৃঢ় এবং সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
বিবৃতিতে কাউন্সিল ইরানি জনগণের সচেতনতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঐক্যের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, শত্রুদের পরাজয় ‘ইমানদারদের’ দৃঢ় সংকল্প, কৌশলগত ধৈর্য এবং অপমান বা একতরফা আপস মেনে নিতে অস্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
বিবৃতিতে ইরান এবং তার বাহিনীর ইরানের ওপর আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে নির্ধারক এবং পরিকল্পিত আঘাত প্রদানের জন্যও প্রশংসা করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতির কথা জানিয়েছে ইসরাইল সরকার।
মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ইরানের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘এ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে ইসরাইল এর কঠোর জবাব দেবে।’
ইসরাইল সরকার জানায়, ইরানের চালানো হামলায় তাদের লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইল ‘ইরানের সামরিক নেতৃত্বের ওপর গুরুতর আঘাত হেনেছে এবং ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তত কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।’
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে মারাত্মক হামলা চালিয়ে শত শত আধা সামরিক বাহিনীকে নির্মূল করেছে, বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
এই মিলিশিয়া বাহিনীটিকে ইরান সরকার প্রায়ই বিক্ষোভ দমন করতে ব্যবহার করতো।
একই সঙ্গে ইসরাইল জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজন জ্যেষ্ঠ পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে তারা।
বিবৃতির শেষে প্রতিরক্ষায় সহায়তা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূলে অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানায় ইসরাইল।
এর আগে সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি এখন থেকে কার্যকর।’ পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করতে ইসরাইল ও ইরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। খবর স্কাই নিউজ।
ট্রাম্প বলেন, ‘দয়া করে এটি লঙ্ঘন করবেন না।’

টানা প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। ইরান ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম যুদ্ধবিরতি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সময় ও শর্ত নিয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে।
এর আগে ইসরাইল ও ইরান একটি ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক’ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সিএনএন বলছে, ইরান ও ইসরাইলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ঠিক কখন এবং কী শর্তে শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা আসেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে একটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন এবং জানান—এটি ঘোষণার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর কার্যকর হবে। তার হিসাবে, রাত ১২টা (ইস্টার্ন টাইম) নাগাদ যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা।
এর ঠিক কিছু সময় পর, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি শিরোনামে জানায়, ‘ইসরায়েল অধিকৃত এলাকায় ইরানের চার দফা হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।’ ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক লাইনের বার্তায় জানায়, যুদ্ধবিরতি এখন ‘বাস্তবায়নের পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে।

ইরানে গত ১৩ জুন ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরাইল। এরপর থেকে থেমে থেমে হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। তবে সোমবার দিবাগত রাতে আবারো ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সেই রাতকে হামলার প্রথম রাতের মতো ‘বিভীষিকাময় রাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরানিরা।
গত রাতে শহরের ওপর ইসরাইলি হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তেহরানের একজন বাসিন্দা।
তেহরানের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত, শহরের বিভিন্ন অংশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন রাজধানীর বাসিন্দারা।
ইসরাইল এর আগে তেহরানের বিভিন্ন অংশ থেকে ‘অবিলম্বে’ সরে যেতে সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য তিনটি সতর্কতা জারি করেছিল।
এদিকে দেশটি এখনো ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যার ফলে বাসিন্দাদের এই সতর্কতাগুলো দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘আমাদের ওপর কী বিপর্যয় নেমে আসছে তা দেখার জন্য কেন এত দেরি করে জেগে থাকতে হবে? আমি মর্মাহত বোধ করছি। এখনো ক্রমাগত যে শব্দ শুনতে পাচ্ছি, আমি ভয় পাচ্ছি, এসব কথা বলছিলেন তেহরানের আরেকজন বাসিন্দা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে—হামলার প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে তেহরানের কিছু এলাকায় ১৩ জুনের পর সোমবার রাতে সবচেয়ে তীব্র বিমান প্রতিরক্ষা সংঘর্ষ দেখা গেছে কিন্তু ভোর ৪টার দিকে বিস্ফোরণগুলো বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন কিছু বাসিন্দা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরাইলকে আক্রমণ বন্ধ করার জন্য ভোর ৪টা পর্যন্ত সময়সীমা দেন এবং ‘ইসরাইলকে তার আগ্রাসনের জন্য শাস্তি দেওয়ার জন্য... একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, ভোর ৪টা পর্যন্ত’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মার্কিন ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি'র সঙ্গে সম্পর্কিত ফার্স নিউজ এজেন্সি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র ফার্সকে জানিয়েছে, ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পায়নি এবং 'কয়েক ঘণ্টার মধ্যে' একটি প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ইসরাইলের কাছে ঘোষণাটি মিথ্যা বলে প্রমাণ করবে।’
সূত্রটি ফার্সকে আরও জানিয়েছে, দোহায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর নিজেদের ‘অপমান’ থেকে ‘মানুষের দৃষ্টি’ সরাতে এই ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরান টাইমস তাদের প্রতেবেদনে বলছে, ইরানকে চাপে রাখতেই সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান সরকারকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য ট্রাম্প এই নতুন মিথ্যাচার করছেন বলে ধারণা হচ্ছে।

পরমাণু কর্মসূচির সাথে যুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা সেদ্দিকি সাবেরকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরান নিউজপেপার জানিয়েছে, গত রাতে গিলান প্রদেশের আস্তানেহ আশরাফিয়া শহরে ইসরায়েলি হামলায় সেদ্দিকি সাবেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
দুই মাস আগে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের অভিযোগে সেদ্দিকি সাবেরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেলের দাম ক্রমাগত কমছে।
মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আরও ৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৬৮ ডলারের কাছাকাছি হয়েছে, যা সোমবারের ট্রেডিং সেশনে ৭ শতাংশ কমারই ধারাবাহিকতা।
তেলের দাম এখন ১২ই জুন থেকেও কম, যেদিন ইসরাইল প্রথম ইরানে আক্রমণ শুরু করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোও ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী।