কিউবা সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে আগ্রাসন চালানোর বিষয়ে তার অব্যাহত হুমকি বাস্তবে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
এ সপ্তাহে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মার্কিন বাহিনী কিউবার উপকূলে গোয়েন্দা বিমানের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ১৯৬২ সালের পর এটি হবে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতি।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র হাভানার ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে কিউবা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি। দ্বীপটি ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটেরও সম্মুখীন। এর জন্য কিউবার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করেছেন।
ট্রাম্প কিউবায় সামরিক অভিযানের বিষয়ে বারবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা একটি বিমানবাহী রণতরি উপকূলে মোতায়েন করা হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অকার্যকর এবং এটি ঠিক করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আর তারা যে এটা ঠিক করতে পারছে না, তার কারণ শুধু এই নয় যে তারা কমিউনিস্ট। তারা অযোগ্য কমিউনিস্ট। একজন কমিউনিস্টের চেয়েও খারাপ হলো একজন অযোগ্য কমিউনিস্ট।’
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা সোমবার অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কিউবা একটি ব্যর্থ দেশ। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পতন ঘটবে এবং আমরা তাদের সাহায্য করতে সেখানে থাকব।’
পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘কিউবার সরকার জনগণের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন এবং সংস্কার করতে অস্বীকার করছে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করলেও তিনি এবং তার প্রশাসন দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আরো গুরুতর নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হতে দেবেন না।
ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর কিউবান স্টাডিজের অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালক সেবাস্তিয়ান আর্কোস অ্যাক্সিওসকে বলেন, জানুয়ারিতে ট্রাম্প যখন কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য একটি আসন্ন হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তার পরপরই হস্তক্ষেপ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এরপর ইরান যুদ্ধের কারণে সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত হয়।
তিনি বলেন, ‘সবকিছু চাপা পড়ে গিয়েছিল। এখন যেহেতু আমরা দেখছি যে ইরান যুদ্ধ একরকম অনিশ্চিত অবস্থায় আছে... আমি কিউবার ওপর পুনরায় মনোযোগ দেওয়ার একটি প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি, শুধু (নজরদারি) ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রেই নয়, বরং সদ্য ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর মাধ্যমেও।’
ট্রাম্প সরাসরি স্থলবাহিনী পাঠাবেন না বলে মনে করেন আর্কোস। তবে ইরানের মতোই ‘দূরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ’ নিতে পারেন যা ‘শাসকগোষ্ঠীকে হতবাক করবে, নেতৃত্বকে ভেঙে দেবে এবং সম্ভবত নতুন নেতৃত্বের উত্থানের সুযোগ তৈরি করবে।’
সূত্র: এক্সেওস
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ফাঁসি দিল ইরান
ভারতে মন্দিরের দেয়াল ধসে নিহত ৬