আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নতুন নজরদারির শঙ্কা

কাশ্মীরের মসজিদ-মাদরাসার তথ্য নিচ্ছে ভারত সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাশ্মীরের মসজিদ-মাদরাসার তথ্য নিচ্ছে ভারত সরকার
ছবি: এএফপি

ভারত-শাসিত কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরের পাড়ার মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী সানাউল্লাহ খান। এই পদ ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে তার পরিবারে। সানাউল্লাহ খানের ছেলে মোহাম্মদ নওয়াজ খান বলেন, তার বাবার এই দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাজি হওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।

নওয়াজ খানের এমন বক্তব্যের মূল কারণ কাশ্মীরে নতুন করে নজরদারি শুরু করেছে মোদি সরকার। তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে শ্রীনগরে মসজিদগুলো নিয়ে নতুন তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে পুলিশ। মসজিদকর্মীদের মাঝে ‘মসজিদের প্রোফাইলিং’ শিরোনামে চার পৃষ্ঠার একটি ফরম বিতরণ শুরু করে, যা ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়ে বাসিন্দাদের মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিতর্কিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞাপন

‘মসজিদের প্রোফাইলিং’-এর ফরমে মসজিদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য, যেমন মসজিদের আদর্শিক মতবাদ, প্রতিষ্ঠার সাল, অর্থের উৎস, মাসিক ব্যয়, জমির মালিকানা এবং একসঙ্গে কতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন, এমন নানা তথ্য চাওয়া হয়েছে।

বাকি তিনটি পৃষ্ঠায় মসজিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি, যেমন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যদের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে তাদের মোবাইল নম্বর, ইমেইল, পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ। ফরমের আরো ছদ্মবেশী কলামগুলোতে উত্তরদাতাদের বিদেশে তাদের আত্মীয়-স্বজন আছে কি না, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ কেমন, এমনকি তাদের মোবাইল ফোনের মডেল ও তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার কথাও বলা হয়েছে। একই ধরনের ফরম মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদেরও দেওয়া হয়েছে।

৪১ বছর বয়সি নওয়াজ শ্রীনগরের জওহর নগর এলাকায় নিজের মুদি দোকানে বসে আলজাজিরাকে এসব কথা বলেন নওয়াজ খান। তিনি বলেন, পুলিশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সঙ্গে যুক্তদের সম্পর্কে অস্বাভাবিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে। ফরমটিতে সাম্প্রদায়িক সম্পৃক্ততা, তহবিলের উৎস, জমির মালিকানা, দাতব্য কার্যক্রম এবং আরো অনেক কিছু সম্পর্কে বিশদ জানতে চেয়েছে। পুলিশের কেন এত ব্যক্তিগত তথ্যের প্রয়োজনÑসে সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন নওয়াজ। বলেন, কাশ্মীরের মতো সংঘাতপূর্ণ একটি অঞ্চলে এ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ পরিবারগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কাশ্মীরে ইসলামী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর বৃহত্তম সংগঠন মুতাহিদা মজলিস-ই-উলেমা (এমএমইউ) মসজিদের প্রোফাইলিংয়ের বিরোধিতা করেছে এবং এটিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। তবে এই উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...