কাতারের উপহার দেওয়া বিমানে সফর করলেন ট্রাম্প

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

কাতারের উপহার দেওয়া বিমানে সফর করলেন ট্রাম্প
কাতারের উপহার দেওয়া বিমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম সফর। ছবি : রয়টার্স

কাতারের উপহার দেওয়া ৪০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে প্রথম সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষভাবে তৈরি এই বোয়িং ৭৪৭-৮০০ বিমানটিতে ট্রাম্পের নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ছাপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বিমানের ঐতিহ্যবাহী হালকা নীল রঙ এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী নতুন বিমানটির নিচের অংশ গাঢ় নীল এবং ওপরের অংশে লাল ও সোনালি দাগ দেওয়া হয়েছে। বিমানের ভেতরে রয়েছে বিলাসবহুল কার্পেট, শুয়ে থাকার আসন, কাঠের প্যানেলিং এবং সিট বেল্টে রাষ্ট্রপতির সিলমোহর।

বিজ্ঞাপন

নতুন বিমানটি নিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি দুটি কাজ করতে পারেন, হয় এটিকে সাদামাটা রাখতে পারেন, না হয় প্রদর্শন করতে পারেন।’

নতুন পুরোনো বিমানের ‘সেতু’

কাতারের দেওয়া এই বিমানটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বা সেতু হিসেবে কাজ করবে। এটি গত ৩৬ বছর ধরে চলা পুরোনো বিমান এবং আগামীতে আসতে যাওয়া দুটি নতুন বিমানের মধ্যবর্তী সময়ে ব্যবহৃত হবে। নতুন বিমান দুটির কাজ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সেগুলো ২০২৮ সালের আগে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পরেই ট্রাম্প এই কাতার থেকে পাওয়া বিমানটি দেখেন। তিনি তার মেয়াদের বাকি সময়ে ব্যবহারের জন্য এটি প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন।

প্রেসিডেন্টের দেওয়া অল্প সময়ের কারণে বিমানের পরিবর্তনের কাজ সীমিত করতে হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি বিমানটির ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, আগের পুরোনো বিমানের মতো এই বিমানে মিসাইল শনাক্ত ও প্রতিহত করার ব্যবস্থা নেই।

মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিমানের ভেতরের কেবিনের নকশায় তেমন পরিবর্তন করেনি। এর নিরাপত্তা বাড়াতে ৪০ কোটি ডলারেরও কম খরচ হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক জেরেমিয়া গার্টলার বলেন, প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অ্যান্টেনা কম থাকায় মনে হচ্ছে বিমানটি কেবল দেশের ভেতরে ওড়ার জন্য উপযোগী।

তিনি বলেন, ‘দূরে যাওয়ার জন্য মানুষ ভালো গাড়ি নেয়। কিন্তু শহরের ভেতর ঘুরার জন্য সাধারণ গাড়িতেই চলে যায়। এটি দেখে দেশের ভেতরের মডেল বলেই মনে হচ্ছে।’

তবে আগামী সপ্তাহে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প এই বিমানটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। বিমান বাহিনী জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি না নিয়েই এই দ্রুত রূপান্তর করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু জটিল প্রযুক্তিগত কাজ এই বিমান থেকে ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে। যেমন বিমানের দরজা চওড়া করা হয়নি এবং নিজস্ব বাড়তি সিঁড়িও যুক্ত করা হয়নি।

ভেতরের দৃশ্য নৈতিক বিতর্ক

প্রেসিডেন্ট উপস্থিত না থাকলে সাংবাদিকদের বিমানের ভেতরে ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে গত বুধবার হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভেতরের ছবি শেয়ার করেছেন।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে সহযোগীরা চামড়ার চেয়ারে বসে আছেন। মার্কিন প্রটোকল প্রধান মনিকা ক্রাউলিও চামড়ার সোফায় বসা নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন।

এই বিমানে চড়ে ট্রাম্প থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি পরিদর্শনের জন্য নর্থ ডাকোটা যান। দেশের ২৫০তম বার্ষিকীতে উদ্বোধনের আগে ট্রাম্পই এই লাইব্রেরির প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শক। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের কাছ থেকে এমন মূল্যবান বিমান উপহার পাওয়া নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। তবে ট্রাম্প এটিকে পুরোনো বিমানের প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি দেশের উপহার যারা আমাদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছে।’

ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, এই বিমানটি শেষ পর্যন্ত কোনো এক প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে রাখা হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন