ভেনেজুয়েলায় ৭.৫ ও ৭.২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং ২০-এর অধিক অনুকম্পনের কারণে কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকার ভবন ধসে পড়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে ৭০০ জন।
বৃহস্পতিবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে বিবিসি প্রথমে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.১ বলে জানিয়েছিল। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পে ট্রুহিলো, কারাবাও, মিরান্ডা, লা গুয়াইরা রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছানোর ৪৪ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণহানি ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ারও ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।
কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, যে এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওই এলাকার অনেক ভবন রিইনফোর্সড ইট এবং মাটির ব্লক দিয়ে তৈরি। ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে সেখানে ভবন ধ্বংস হওয়া এবং মৃত্যুর উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
এমতাবস্থায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, মাইকেতিয়ার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ার পর বিমানবন্দরটি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, স্কুল ক্লাস বাতিল এবং মেট্রো ও রেলসেবা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রমও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, বিবিসি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


