থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামে সুপরিচিত সবজি স্কোয়াশ চাষে সফল হলেন— হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কৃষক সেলিম মিয়া। তিনি স্কোয়াশ প্রথম চাষ করলেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আরো পাঁচ-সাত বছর আগে থেকেই স্কোয়াশ চাষ হচ্ছে। নতুন জাতের এ সবজি চাষ করে সফল হওয়ায় অন্য চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন এ সবজি চাষে।
রকমারি সবজি চাষি সেলিম মিয়া শীত মৌসুমে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণ জমিতে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশ চাষ করে একদিকে যেমন সফলতা পেয়েছেন, অন্যদিকে আর্থিক লাভবানও হয়েছেন তিনি। চাষি সেলিম মিয়া বাহুবল উপজেলার পাঁচ নম্বর লামাতাশি ইউনিয়নের তঘলি গ্রামের বাসিন্দা।
সেলিম মিয়া জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মুলা, টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছি। উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীম ভাই স্কোয়াশ চাষে উৎসাহ দেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উনার পরামর্শে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে স্কোয়াশের বীজ নিয়ে মিষ্টিকুমড়া বা লাউ গাছের মতো বীজ বপন করে চারাগাছ গজানোর পর তা জমিতে রোপণ করি। প্রায় দেড় মাস পর ফল আসতে শুরু করে। স্কোয়াশ গাছ একদম মিষ্টিকুমড়ার মতো। ১৩ শতক জমিতে চাষ করতে বীজ ক্রয়, জমি প্রস্তুত, সার ও কীটনাশকসহ আট হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। জমি থেকে কিছু স্কোয়াশ বিক্রি করেছি। এ জমি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার স্কোয়াশ সবজি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।
উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, পরামর্শ দিয়ে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছি। কৃষক সেলিম মিয়া খেতে স্কোয়াশ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তার ন্যায় অন্য কৃষকরাও স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, স্কোয়াশ একটি বিদেশি সবজি। এ সবজি চাষে কৃষকদের তেমন ধারণা নেই। এ এলাকায় যে দুই-একজন চাষ করেছেন, তারা সফল ও আর্থিক লাভবান হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই অফিসে আসছেন পরামর্শ নিতে। স্কোয়াশ চাষ বেশ লাভজনক। আশা করছি, আগামী মৌসুমে ব্যাপক আকারে স্কোয়াশ চাষ হবে। এছাড়া ব্রকলি, ক্যাপসিকাম, রেড ক্যাবেজ ইত্যাদি বিদেশি সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত এবং নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কৃষি পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, স্কোয়াশ সাধারণ কুমড়ার মতো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর খাদ্য ও পুষ্টিগুণ কুমড়ার চেয়ে অনেক বেশি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হার্টের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। স্কোয়াশে একই সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, ভিটামিন বি-৬, নায়াসিন, থায়ামিন, প্যানথোটোমিন এসিড । এছাড়া স্কোয়াশ ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, খনিজ, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারোটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানে ভরপুর। নিয়মিত স্কোয়াশ খেলে ফ্রি র্যাডিক্যালসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

