বান্দরবানে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে কৃষকদের

মো. আবুল বাশার নয়ন, বান্দরবান

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে কৃষকদের

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে নির্মাণাধীন কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় উৎপাদিত বিপুল ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে নষ্ট হয়ে আসছিল। এ সমস্যা সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলমূল ও শাকসবজির দেহে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পানি থাকায়, এগুলো দ্রুত পচনশীল। পোকামাকড়, রোগবালাই ও পরিবেশগত নানা কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের অপচয় ঘটে। আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব কৃষিপণ্যের পুষ্টিগুণ ও মান দীর্ঘসময় অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

এ প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিন পার্বত্য জেলায় ৫০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফলমূল সংরক্ষণের জন্য তিনটি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে স্কিমটির প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করে। ২১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে আগস্ট ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে ১৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জুন ২০২৫ পর্যন্ত প্রকল্পে ১৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছ।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান জেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ভবনে দুই চেম্বারবিশিষ্ট ৫০ টন ধারণক্ষমতার কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটি ২০১২-১৩ অর্থবছরে নির্মিত হয় এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর দ্বিতীয় তলা সংযোজন করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি ভবনটি অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় বোর্ড কোনো রাজস্ব আয় করতে পারেনি। পরবর্তীতে অবৈধ দখলমুক্ত করে সেখানে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর সরকারি ই-জিপি পদ্ধতিতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু করা হয়েছে ।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, জুন ২০২৬-এর মধ্যেই কোল্ড স্টোরেজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...