আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হবিগঞ্জ-১

বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ

বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে এতদিন জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আলোচনায় ছিলেন। ভোটের মাঠে এই তিন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ছিল। কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলী জোটের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আসনটিতে ভোটের সমীকরণ অনেক পাল্টে গেছে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ ফেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া আসনটিতে আরো দুই প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী বদরুদ্দোজা ও জাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ। তবে এই তিন প্রার্থীর কেউই স্থানীয়ভাবে তেমন পরিচিত ও জনপ্রিয় না হওয়ায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। বর্তমানে আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে শক্ত লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ ভোটাররা।

বিজ্ঞাপন

ড. রেজা কিবরিয়ার বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া স্থানীয়ভাবে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। এই জনপ্রিয়তা ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য ভোটের মাঠে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে সুজাতকে সমর্থন দিচ্ছেন। যদিও পদধারী কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে সুজাতের পক্ষে কোনো কর্মসূচি বা প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও গণসংযোগ করে ভালো অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সুজাতের লাভ হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। ফলে আসনটিতে এবার মূল লড়াই হবে বিএনপি প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী শেখ সুজাতের মধ্যে।

বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি এলাকায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন সুজাত। তাছাড়া জামায়াত সমর্থকদের মাঝে বিভাজন তৈরি হওয়ায় বৃহৎ একটি অংশ শেখ সুজাতের বলয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শেখ সুজাতের ভাগ্য খুলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয়ভাবে ড. রেজা কিবরিয়াকে নির্বাচিত করার জন্য জোর প্রচার চালাচ্ছেন। তারা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। গ্রামগঞ্জ চষে বেড়াচ্ছেন। রেজা কিবরিয়া নিজে নির্বাচনি প্রচারে তেমন সময় না দিলেও তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া প্রচারে নেমে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে শেখ সুজাতের কর্মী-সমর্থকদের প্রচারের পাশাপাশি তিনি নিজে সামাজিকমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট করে সাধারণ মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনীতি, দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ভালোবাসা এবং দলের জন্য তার অবদান ও বিসর্জনের কথা তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে ভোটারদের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

শেখ সুজাত বলেন, যে দলের জন্য জীবনের ৪০টি বছরে সবকিছু বিলিয়ে দিলাম, আজ সেই দল আমাকে ত্যাগ করল। এখন আমার কোনো দল নেই। এলাকার মানুষ, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরাই আমার শেষ ভরসা। তার বিশ্বাস, মানুষ তাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসে এবং নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তাই স্বামীর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারেননি। এবার স্বামীর পাশে থেকে নির্বাচনে কাজ করতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায় মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। তার স্বামী নির্বাচিত হলে দেশ তথা নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৪০ বছর এলাকায় ওয়াজ মাহফিল করে আসছি। তাই মানুষ আমাকে মহব্বত করে, ভালোবাসে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন