আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পদ্মার ভাঙনে শ্মশানঘাট পানের বরজ বিলীন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ

উপজেলা প্রতিনিধি, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)

পদ্মার ভাঙনে শ্মশানঘাট পানের বরজ বিলীন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর, হাটখোলাপাড়া ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি ও মাধবপুরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাটও পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে শতাধিক পানচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের প্রায় ৫ হাজার পিলি (পান বরজের সারি) বরজ পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও বাহিরচর ও মোকারিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভাঙনকবলিত স্থান থেকে পদ্মা নদীর (রায়টা-মহিষকুন্ডি) বেড়িবাঁধের দূরত্ব ৫০ মিটারেরও কম।

জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর, হাটখোলাপাড়া ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি ও মাধবপুরে পদ্মা নদীতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত স্থান থেকে পদ্মা নদী রক্ষা (রায়টা-মহিষকুন্ডি) বেড়িবাঁধের দূরত্ব ৫০ মিটারেরও কম।

হুমকিতে রয়েছে অত্র এলাকার বসতবাড়িসহ সরকারি, বে-সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে ওই অঞ্চলে বসবাসকারীদের। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়। অপরদিকে মাধবপুরের ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ প্রান্তিক চাষিদের পান বরজ। গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে শতাধিক পান চাষির প্রায় ৫ হাজার পিলি পান বরজ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশানঘাটটিও নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।

পান চাষি হাসান আলী বলেন, মাধবপুর এলাকায় গত ২ বছর আগে এসব বরজ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। এবার আবার পদ্মা নদী গিলে খাচ্ছে। আমরা কৃষকরা খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি।

মোসলেম উদ্দিন বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে ৫ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখানে প্রায় ৫০০ পিলি পানের বরজ ছিল। একমাত্র উপার্জনের জায়গা হারিয়ে আমি এখন অথৈ সমুদ্রে পড়ে গেছি। নদীর ভাঙনে পানচাষি আনেজ, আবু, শিহাব মবির পন্ডিত, রেজাউল, আজগর, জামশেদ, রাব্বি, রহমান, কাশেম, নুরা, নাসিরসহ অনেকে এখন দিশেহারা।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর, হাটখোলাপাড়া এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি ও মাধবপুরের পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি আমরা জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিদের আবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, জুনিয়াদহ ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ভাঙনের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। শীঘ্রই বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হবে। পরে অন্যান্য অঞ্চলেও কাজ শুরু করবো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: