পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হলেও বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কয়েকটি সড়ক ব্যবস্থার সংস্কারের পরই ভেঙে পড়েছে । এতে সড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে । সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে অনেক জায়গায় পিচ উঠে যাচ্ছে, আবার কোথাও দেখা দিচ্ছে ভাঙন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম এবং যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে নতুন সড়কগুলো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। ফলে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত ‘পাহাড়ে স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রুমা উপজেলায় বেশ কয়েকটি সড়কের কাজ চলছে। তবে এসব প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছে রুমা-রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক থেকে পাইন্দু হেডম্যান পাড়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি স্থানে মোট ৭৫ মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কথাও রয়েছে।
স্থানীয় ছোহ্লামং মারমা, এবাই মং মারমা ও উক্য থোয়াই মারমা জানান, একই সড়কের প্রথম ধাপের প্রায় ১ হাজার ৫০ মিটার পিচ ঢালাইয়ের কাজ ২০২৪ সালে শেষ হয়। কিন্তু কাজ সমাপ্তির মাত্র এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার না করেই এখন নতুন অংশের কাজ শুরু করা হয়েছে।
পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গংবাসে মারমা বলেন, ‘কাজের মান অত্যন্ত খারাপ। নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাতের বেলায় মাটিসহ ঢালাই দিয়ে সাইট ওয়ালের কাজ করা হচ্ছে।’ স্থানীয় চাঁদের গাড়িচালক উক্য থোয়াই মারমা বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চালাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এলজিইডির মাধ্যমে সড়কটির অনুমোদন পাওয়া যায়। কিন্তু প্রথম ধাপের নির্মিত অংশ এক বছরের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হানিফ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে অভিযোগ করে লাভ নেই, নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করতে হবে।
এদিকে প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা এলজিইডির ফিল্ড অফিসার বিদ্যুৎ চরণ ধর সজিব জানান, ঠিকাদারের অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে জেলা কার্যালয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। ঠিকাদারকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি নির্দেশনা মানছেন না বলেও দাবি করেন।
বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, নতুন নির্মিত কোনো সড়কের কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের জন্য ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার করা হবে। এছাড়া ঠিকাদারের জমাকৃত সিকিউরিটি মানি থেকেও প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

