মানুষের আশার আলো হতে চায় ‘গ্রিন হেলথকেয়ার ফ্রেমওয়ার্ক’

সুমাইয়া আক্তার

মানুষের আশার আলো হতে চায় ‘গ্রিন হেলথকেয়ার ফ্রেমওয়ার্ক’

একটি ঘূর্ণিঝড়ের রাতে খুলনার দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। বাইরে তীব্র বাতাস ও বৃষ্টির দাপট। স্বাস্থ্যকর্মীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ফ্রিজে সংরক্ষিত টিকাগুলো। সাধারণত টিকা দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে সেই তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আর টিকা নষ্ট হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এলাকার শত শত শিশু ও মা।

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এই বাস্তবতা বদলাতে চান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সামিহা বিনতে মোস্তফা। তার উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘Green Healthcare Framework for Kamarkhola Union, Dacope, Khulna’ সম্প্রতি Youth for NDCs, YECAP ও UNDP-এর সহযোগিতায় পরিচালিত ‘Youth for NDCs Implementer Fel-lowship’-এর অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সামিহার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগের সময়ও স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখা। এজন্য তিনি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় একটি সোলার হাইব্রিড সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে থাকবে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও স্মার্ট ইনভার্টার। ফলে জাতীয় গ্রিড অচল হয়ে গেলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকবে। এতে টিকার কোল্ড চেইন সুরক্ষিত রাখা, জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল রাখা সম্ভব হবে।

তবে তার ভাবনা শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়। কামারখোলা ইউনিয়নের আরেকটি বড় সমস্যা চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ ও অন্যান্য বর্জ্য অনেক সময় খোলা জায়গায় পুড়িয়ে ফেলা হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ সমস্যার সমাধানে প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে সৌরশক্তিচালিত অটোক্লেভ প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে চিকিৎসা বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করা হবে, ফলে দূষণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো GIS ও Remote Sensing প্রযুক্তির ব্যবহার। এর মাধ্যমে একটি বন্যা-সহনশীল মানচিত্র তৈরি করা হবে, যা সৌর প্যানেল স্থাপনের নিরাপদ স্থান নির্ধারণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহে যুক্ত করা হবে।

সামিহা বিনতে মোস্তফার হিসাব অনুযায়ী, এই উদ্যোগ সরাসরি প্রায় চার হাজার মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে তার এই প্রকল্প দেখিয়ে দেয়, গবেষণা, প্রযুক্তি ও মানবিক চিন্তার সমন্বয়ে একটি ছোট উপকূলীয় জনপদ থেকেও বড় পরিবর্তনের সূচনা সম্ভব।

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন