আমার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর জাল শিক্ষাসনদ ব্যবহার করা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়ছটা প্রেমাশিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি রিদওয়ানুল হক সুমন পদত্যাগ করেছেন।
জানা গেছে, গত ২০ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রিদওয়ানুল হক সুমন রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা থেকে বিবিএ পাসের একটি সনদ জমা দিয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন নেন। তবে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, তাদের কোনো রেকর্ডে তার নামে কোনো শিক্ষার্থী বা ডিগ্রির তথ্য নেই।
সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত শুরুর আগে রিদওয়ানুল হক সুমন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যবসায়িক কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করতে হবে উল্লেখ করে সভাপতির দায়িত্ব পালন সম্ভব নয় বলে জানান।
বোর্ড সূত্র জানায়, যে কোকো বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে কমপক্ষে ডিগ্রি পাশের সনদ জমা দিতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এক বা একাধিক আবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করেন।
বোর্ড থেকে যাচাইবাছাই করে কমিটির চুড়ান্ত অনুমোদন দেন। গত ২ জুন বাঁশখালী উপজেলার রায়ছটা প্রেমাশিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে আবেদন করেন রিদওয়ানুল হক সুমন। আবেদনের সঙ্গে ২০২৩ সালে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা থেকে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন সংক্রান্ত একটি সনদপত্র দেন।
একদিনের মাথায় ৩ জুন তড়িঘড়ি করে তাকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, পদত্যাগ পত্রের অনুলিপির কপি তিনি পেয়েছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম আমার দেশকে জানান, রিদওয়ানুল হক সুমনের পদত্যাগপত্র বোর্ডে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্তও চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

