কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গত দুই-তিন দিন ধরে চলা টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী হাজারো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে মাইকিং করা হয়েছে।
গত রবি ও সোমবার টেকনাফ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়নের মধ্যে টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইকং ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউনিয়ন পরিষদ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করেছে।
পানিবন্দি নিম্নাঞ্চল স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানিয়েছে, ২১ জুন রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রবল বর্ষণ ২২ জুন সোমবার বিকেল পর্যন্ত অবিরাম অব্যাহত থাকে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বিশেষ করে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া ও সদর ইউনিয়নের উত্তর লেঙ্গুরবিল, মিঠাপানির ছড়া পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে শুধু পাহাড়ধসের আশঙ্কাই নয়, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও চিংড়িঘের তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানান, পাহাড়ের ঢালে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বনকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা অক্ষত ও নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান নিশ্চিত করেছেন।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আমার নির্বাচিত এলাকার নিম্নাঞ্চল রঙ্গিখালী, সুলিচপাড়া, চৌধুরীপাড়া ও লামারপাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
হোয়াইকং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল বলেন, অত্র ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে পুরো ইউনিয়নে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের বড় ঝুঁকি রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিং করেছি। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষেরও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তারও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

