কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৮ কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে চার কলেজের কেউ রেজিস্ট্রেশন করেনি। বাকি চার কলেজের ৩৫ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেও নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ তালিকায় ফেনী জেলার নোবেল কলেজ, কুমিল্লা জেলার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ।
এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠানের ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬০৬। এ বছরও ছেলে পরীক্ষার তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থী ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন জানান, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছয় জেলায় মোট ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাসের হারে ১৩টি প্রতিষ্ঠানেরও কলেজ স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। তারা ২০২৭ সালে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
তিনি জানান, এ বছরও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজার বেশি। মেয়েদের সংখ্যা বাড়ায় নারী শিক্ষায় যেমন একটি ইতিবাচক দিক, তেমনি ছেলেদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু আছে। এ বছরই প্রথম এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। বিগত কিছু বছর যাবৎই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। এ বছর যে ১০ জন এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছিল, তারাও পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়েও তো তোরজোড় করা যায়নি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর জামাল নাসের মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে, সেগুলোকে কলেজে উত্তীর্ণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে পরিচালনা না করা গেলে কলেজ চালাতে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা ও আর্থিক সংকট এবং সুনামের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। এতে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসে। তার চেয়ে বরং যারাই মহৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তারা যদি আলাদা করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটি দায়িত্বশীল ভাবে পরিচালনা করেন তাহলে এই দুর্ভাগা পরিণতিতে কাউকে পড়তে হবে না।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কোন কোন কলেজগুলো থেকে শূন্য পরীক্ষার্থী এবং কেন সেসব কলেজ থেকে কোন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো না এই বিষয়গুলো আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। সেসেব প্রতিষ্ঠানগুলের মানোন্নয়ন বা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার পদ্ধতি আছে কি না আমরা পর্যালোচনা করবো।
এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ আমার দেশকে বলেন, ২ তারিখ এসএসসি পরীক্ষা সম্পূর্ণর জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে । এবছর সারা দেশের সকল বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । এটা একটু বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ । পরীক্ষার সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে । বর্ষা মৌসুম হবার কারণে শিক্ষার্থীদের কে চার্জার লাইট এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় বিকল্প ব্যবস্থা রাখা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে । ধন্যবাদ নকলমুক্ত পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কেন্দ্র সচিব থেকে শুরু করে পরিদর্শকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

