কক্সবাজারের আলোচিত উপজেলা উখিয়ায় মাত্র ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থান থেকে প্রায় একই আকৃতির দুটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণের কারণে এ ধরনের বন্য প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা বেড়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন এলাকা থেকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা ও আনুমানিক ১৫ কেজি ওজনের একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়।
অপর দিকে মঙ্গলবার রাত ৮টায় উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ক্লাসাপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়ি থেকেও প্রায় ১০ ফুট লম্বা ও আনুমানিক ১৫ কেজি ওজনের একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করে বন বিভাগ।
সূত্র বলছে, ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনে অজগরটি দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সিআইসি মোহাম্মদ আল ইমরান বিষয়টি দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে উখিয়া রেঞ্জ বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগরটি উদ্ধার করেন।
বন বিভাগের দৌছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে বার্মিজ অজগরটি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা সাপটি সুস্থ রয়েছে। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে বন বিভাগের বিধি অনুযায়ী এটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
মাত্র ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে উখিয়ার দুটি পৃথক স্থান থেকে একই আকারের দুটি বার্মিজ অজগর উদ্ধারের ঘটনা ঘটল। বন বিভাগ বলছে, বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত তাদের জানাতে হবে।
উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শাহীনুর রহমান বলেন, বার্মিজ অজগর একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত না হয়ে সেটিকে আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
শাহীনুর বলেন, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে। এ অবস্থায় জনসাধারণের সচেতনতা এবং বন বিভাগের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

