কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার পুঁটিবনিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এক সময় ৩০০-৪০০ শিক্ষার্থীর পদচারণে মুখরিত বিদ্যালয়টি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তারপরও বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসেনি।
জানা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রথমে ১৯৯২ সালে স্থানীয় হামিদুল হকসহ এলাকাবাসী প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ঘর নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় ১৯৯৮ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী চারজন শিক্ষকের বেতন নিজ উদ্যোগে প্রদান করতেন। তিনি প্রতি শিক্ষককে মাসিক তিন হাজার টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করতেন।
কিন্তু ২০০৩ সালে চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর বিদ্যালয়টি সংকটে পড়ে। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আরো কয়েক বছর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু থাকলেও পরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০০৫ সালে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের নামে বর্তমানে প্রায় এক কানি বা ১২০ কড়া জমি থাকলেও সেখানে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম নেই।
বিদ্যালয়টির তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নুরুল কবির বলেন, এক সময় এ বিদ্যালয়ে ৩০০-৪০০ শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষকরা খুব কষ্ট করে পাঠদান করতেন। বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি নিজেও এ বিদ্যালয়ের জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলাম। পরে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক। এলাকার শিশুদের শিক্ষার স্বার্থে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, রিপোর্টারের মাধ্যমে জানতে পারলাম পুঁটিবনিয়া এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। এলাকার শিক্ষা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কী করা যায়, সে বিষয়ে চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

