ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে এমপি হানজালা

সালিশে তর্ক থামাতেই ধমকের স্বরে কথা বলেছি

উপজেলা প্রতিনিধি, শিবচর (মাদারীপুর)

সালিশে তর্ক থামাতেই ধমকের স্বরে কথা বলেছি
ছবি: আমার দেশ।

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি সালিশ বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শিবচরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা টেবিল চাপড়ে উপস্থিত কয়েকজনকে ধমকের সুরে কথা বলছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এমপি হানজালা বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগের। স্থানীয়রা তাকে ছাড়া সালিশে বসতে রাজি না হওয়ায় তিনি সেখানে উপস্থিত হন। সালিশ চলাকালে দুই পক্ষ বারবার তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন।

তিনি বলেন, “সালিশের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আমাকে ধমকের স্বরে কথা বলতে হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সালিশের মাধ্যমে বিরোধের সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হয়েছে।”

পরে উপজেলার কাজিরসূরা এলাকায় এক জনসভায় উপস্থিত জনগণের সামনেও তিনি একই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি ঘটনার আংশিক অংশমাত্র এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ভিডিওটি প্রকাশ করায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধ ও মারামারির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে এমপি হানজালাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ উপস্থাপনের সময় দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সালিশে উপস্থিত ভুক্তভোগী তারামিয়া বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত ও যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ থাকা উচিত। তার অভিযোগ, মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে ভাইরাল ভিডিও ও এমপি হানজালার ব্যাখ্যাকে ঘিরে শিবচর উপজেলা জুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কেউ তার বক্তব্যকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়াস হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সালিশ কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভাষা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও নানা মত ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন