একই আইনে ভিন্ন ভিন্ন দণ্ড কেন, আইন কমিশনের সেমিনারে বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার

একই আইনে ভিন্ন ভিন্ন দণ্ড কেন, আইন কমিশনের সেমিনারে বক্তারা

বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দণ্ডের মাত্রা নির্ধারণে একটি অভিন্ন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত কাঠামো বিনির্মাণের লক্ষ্যে আইন কমিশনের উদ্যোগে “ফৌজদারি অপরাধের দণ্ডের মাত্রা নিরূপণ বিষয়ক আইন প্রণয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই” শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আজ রোববার আইন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে একই আইনে ভিন্ন ভিন্ন রায় বিষয়ক জটিলতা নিরসনে উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো আইন প্রণয়নের শুরুতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, একটি আইন চূড়ান্তকরণের আগে মন্ত্রিপরিষদ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় সংসদে বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়—এসব স্তরে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত সংযোজিত হলে আইন আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হয়।

মন্ত্রী প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা ও সংজ্ঞা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সেন্টেন্সিং গাইডলাইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা।

সেমিনারে বক্তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দণ্ড নির্ধারণ সংক্রান্ত পৃথক আইন ও নির্দেশিকা প্রবর্তনের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমেয়তা বৃদ্ধির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, বাংলাদেশেও এ ধরনের আইন প্রণয়ন জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

আইন কমিশনের সচিব সৈয়দ আজাদ সুবহানী স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রস্তাবিত আইনের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন কমিশনের গবেষণা কর্মকর্তা মোসাম্মাত মনিরা সুলতানা।

উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দণ্ডের মাত্রা নির্ধারণে নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট আইনগত নির্দেশনার অভাবে একই ধরনের অপরাধে দণ্ডের তারতম্য দেখা দেয়, যা ন্যায়বিচারে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করে।

আলোচনা পর্বে আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও অধ্যাপক ড. নাইমা হক, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।

সেমিনারে আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন কমিশন, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন