ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদক বিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। এসময় বাড়ি ঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে।
রোববার উপজেলার মহেশ্বরদী গ্রামে সকাল ৮টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন পুলিশ। সংঘর্ষে ভাঙ্গা-ফরিদপুর -বরিশাল মহাসড়কের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুপাশে শত শত গাড়ি আটকে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। পুলিশ ও হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের কালাম কাজীর বাড়িতে শুক্রবার মাদক বিরোধী সভার আয়োজন করা হয়। এনিয়ে এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মাদকবিরোধী সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুইদল গ্রামবাসীর মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্ট হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের খোকন মিয়া প্রতিপক্ষ দেলোয়ারের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। ওই ঘটনার জের ধরে রোববার সকালে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ইট পাটকেল নিক্ষেপ, বাড়ি ও দোকান ঘরে হামলা ও ভাঙচুরে গোটা এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত আকতার মাতুব্বর,রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা আহত হয়েছেন।
হামিরদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া জানান, মাদক বিরোধী সমাবেশে যোগদান করায় দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়ি ভাঙচুর ও তাকে মারধরের জেরধরে সংঘর্ষের সৃষ্ট হয়েছে।
ছিরু মিয়ার অভিযোগ, মাদক বিরোধী মিটিংয়ের নামে মাদক কারবারিরা এক হয়েছে এবং খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়েই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

