মাদক সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেছেন, ‘মাদক কোরআনেও হারাম, বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্যও মাদক হারাম।’
শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের মুগদিয়া বাজারে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সংসদে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হবে এবং মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের জামিন না দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। যে দলেরই হোক, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন।
সংসদ সদস্য বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, সমাজে অপরাধ বাড়ায় এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রতনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদলসহ এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

