সপ্তাহজুড়ে টানা বর্ষণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কে পানি ওঠায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক মিল-কারখানা, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবারের ঘরে কোমরসমান পানি ওঠায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে পৌরসভার হরিণহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ এলাকা, আনসার একাডেমি, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, নিশ্চিতপুর, হাবিবপুর, রূপনগর, শিয়ালপাড়া, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, দিঘীরপাড় বটতলা ও পূর্ব চান্দরাসহ বিভিন্ন এলাকায়।
পানিবন্দি মানুষ জানান, অধিকাংশ হাট-বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না। অনেক এলাকায় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে নৌকা বা অস্থায়ী ভেলা। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক এবং কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে কয়েক দিন ধরে সকাল-সন্ধ্যা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছি। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।”
অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-ড্রেন ভরাট এবং জলাবদ্ধতার জন্য পৌরসভার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রকৌশলী হরিপদ রায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে খাল-ড্রেন পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাদের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

