করিমগঞ্জ উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাসেল মিয়া (৩০) ওই গ্রামের বাসিন্দা ও কুতুবউদ্দিনের ছেলে। তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের ছাইদুর রহমানের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন রাসেল মিয়া। ওই টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় কয়েক দিন আগে রাসেলের সঙ্গে ছাইদুর রহমান, মামুন, সুমন, হিমেলসহ কয়েকজনের বাগবিতণ্ডা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জেরে সোমবার সকাল ৯টার দিকে রাসেলকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাসেলকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক একটি মামলায় আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরে তাকে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
করিমগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিয়াদ শাহেদ রনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেল মিয়াকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাসেলকে মারধর করা হয়েছে। রাসেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল জেনে প্রতিপক্ষ পুলিশকে খবর দিয়েছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে রাসেলকে মারধর করা হয়েছে। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

