যৌন হয়রানির অভিযোগ

খুবিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

প্রতিনিধি, খুবি

খুবিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি
ছবি: আমার দেশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত স্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। পরে সংগৃহীত স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে যৌন হয়রানির ঘটনায় কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর বিন মুহিত বলেন, ‘আমরা চাই তদন্তটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হোক। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির দায়িত্বে থাকেন। সেই অবস্থান থেকে কেউ বিচ্যুত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

একই ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, ‘আমরা শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী সমাধান চাই। অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় সাময়িক পদক্ষেপের নজির থাকলেও যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।’=

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ডিসিপ্লিনটির প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করলে বিষয়টি সামনে আসে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরদিন তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ ও প্রতীকী জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচিও আয়োজন করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে অভিযোগের তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে। গত রোববার থেকে কমিটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন পৃথক আদেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্বমুক্ত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...