বাগেরহাটের মোংলায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর নদীতে বিরতিহীন দুটি ফেরি চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শনিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি এ সেবার উদ্বোধন করেন।
মোংলা নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত মোংলা ইপিজেড, মোংলা বন্দর, শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় নদী পারাপার নিশ্চিত করতেই এ ফেরি সেবা চালু করা হয়েছে।
বিশেষ করে মোংলা ইপিজেডে কর্মরত হাজারো শ্রমিকের প্রতিদিনের কর্মস্থলে যাতায়াত এখন আরও সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে। এতে দীর্ঘদিনের পারাপারের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমার জন্য একটি আলোকিত সকাল। মোংলা নদীতে বিরতিহীন ফেরি চলাচল শুরু হলো। মোংলা নদীর ওপর প্রত্যাশিত ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত মোংলা ইপিজেড, বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে কর্মরত এবং সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে নদী পারাপার নিশ্চিত করতে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, বিরতিহীন ফেরি চালুর মাধ্যমে মোংলা ইপিজেডের শ্রমিক, মোংলা বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফেরি সেবা চালুর ফলে কর্মজীবী মানুষের সময় ও খরচ দুটোই কমবে। একই সঙ্গে তারা মোংলা নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত ঝুলন্ত সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানান।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিরতিহীন ফেরি সেবা চালুর মধ্য দিয়ে মোংলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান হিসেবে ঝুলন্ত সেতুর নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

