খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। বুধবার ভোর ৬টায় এ ঘটনা ঘটে।
মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন পাঁচজন।
আহতরা হলেন—হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।
ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কীভাবে হয়েছে বলা যাচ্ছে না। ধোঁয়ায় ওটি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের কিছু দেখা যাচ্ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ রুম থেকে মুমূর্ষু রোগী ও আইসিইউর কিছু রোগী পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নার্সদের উদ্ধার করেন।
ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, ভোর ৬টার দিকে আমরা আগুন লাগার খবরে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করি। পরে আরও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন ছিল। প্রথমে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। সব গেটে তালা দেওয়া ছিল, যা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। প্রথমেই আমরা বেলকনি থেকে চার-পাঁচজনকে উদ্ধার করি। পরবর্তীতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে হতাহতের কোনো খবর পাইনি।
রোগী ও রোগীর স্বজনেরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় বেশির ভাগ লোক ঘুমে ছিলেন। স্টোররুমে আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পড়ে ওটির সবকিছু পুড়ে যায়। সবাই আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে নিরাপদে নিচে নেমে হাসপাতালের মাঠে অবস্থান করেন। অনেকে তাদের রোগীদের অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
তাদের অভিযোগ, ওটিতে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন চলে। সেখানে এভাবে আগুন লেগে সব পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি রহস্যজনক। এর সুষ্ঠ তদন্ত প্রয়োজন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খুমেক হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপালী ও শারমিনকে ভবন থেকে উদ্ধার করে নিচে নামানোর সময় ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ আহত হন। পরে দিপালী ও শারমিনকে চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

