উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় উৎকণ্ঠায় তিস্তাপাড়ের মানুষ

হাসান উল আজিজ, লালমনিরহাট

উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় উৎকণ্ঠায় তিস্তাপাড়ের মানুষ
ছবি: আমার দেশ

ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারতের উজান থেকে হুহু করে আসছে পানি। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের লোকজন। রোববার দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা নদীপাড়ের মানুষের।

তিস্তা ব‌্যারাজ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি কখনো কমছে, কখনো বাড়ছে। রোববার দুপুর ১২টায় তিস্তার পানি ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তার পানি কমা-বাড়ার লুকোচুরির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ।

বিজ্ঞাপন

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খোলে রেখে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এদিকে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, তিস্তা এবং ধরলা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র আরো জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অপরদিকে বাংলাদেশের ডালিয়ার তিস্তা ব্যারেজের উজানের ৬৮ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভারতে নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারেজ পয়েন্ট। বাংলাদেশ অংশে তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত না হলেও ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশে তিস্তার উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা দিয়েছে বন্যা।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছিলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে চলছে। বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের পর প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে এবং নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রীর এ আশ্বাসের পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন চড়ের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, ভারতে বন্যা হলেই তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষ আতঙ্কে দিন কাটায়, কারণ তাদের দেশের পানি পরিস্থিতি সামাল দিতে গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে পানি বাংলাদেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ কারণে আমরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি। অপর কৃষক শহীদার রহমান বলেন, ভোটের আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের শতভাগ নিশ্চয়তা দিলেও ভোট শেষে নেতাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর কোনো আশ্বাস নয়, তিস্তা নদীপাড়ের অসহায় মানুষগুলো বাঁচাতে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন