গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানান মঙ্গলবার বিকেল চারটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার জুনদহ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এসময় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যায় পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপির কর্মীরা বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মারধর করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা জুনদহ বাজারে জড়ো হলে রাত ১০টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত বিএনপি সভাপতি আবদুস সামাদকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সংঘর্ষের সময় জুনদহ বাজারের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আলা মওদুদ মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরাই বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে সভাপতিসহ তিনজনকে মারাত্মক আহত করেছে।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মীরা প্রথমে শিবিরের এক নেতাকে মারধর করেন এবং পরে দলবল নিয়ে এসে জামায়াতের শুরা সদস্যসহ চার-পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করেন।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারওয়ার আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেন।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

