বিপিপিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ই-জিপি আধুনিকায়নে প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার

বিপিপিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ই-জিপি আধুনিকায়নে প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণে বিপিপিএ ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ই-জিপি সিস্টেম উন্নয়ন, ই-জিপি বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন এবং বিপিপিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপিপিএর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রক ও তদারকি কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি ই-জিপি প্ল্যাটফর্মকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় সময়োপযোগী সংশোধন প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত একটি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন ক্রয়কারী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, একাডেমিয়া এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনার সূচনায় বিপিপিএর পরিচালক শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম ‘সরকারি ক্রয়ের আইনগত কাঠামো: ই-জিপি ব্যবস্থার অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন। এতে সরকারি ক্রয় সংস্কারের অগ্রগতি, বিপিপিএর সাংগঠনিক কাঠামো, ই-জিপির সাফল্য, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ বলেন, বর্তমান ই-জিপি প্ল্যাটফর্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, নাগরিকবান্ধব ও পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় রূপান্তরের কাজ চলছে। ব্যবহারকারীদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করতে বিভাগীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অংশীজনদের নিয়ে ধারাবাহিক পরামর্শ সভার আয়োজন করা হবে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কর্মশালায় বিপিপিএর জন্য প্রস্তাবিত ১১০ সদস্যের জনবল কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম, আইন পরিপালন তদারকি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং দেশব্যাপী সক্ষমতা উন্নয়নের মতো দায়িত্ব পালনের জন্য এ জনবল যথেষ্ট নয়।

তারা আরও বলেন, সরকারি সেবায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ই-জিপি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকর আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ ভূমি অধিগ্রহণ এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিপিপিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ই-জিপির আধুনিকায়ন অপরিহার্য। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পরিধি সম্প্রসারণেরও ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন