রংপুরে এমপি আতিক মুজাহিদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পারছেন না

রংপুর অফিস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পারছেন না
ছবি: আমার দেশ

আমরা মনে করি যে চার মাসে যে কয়েকটা মন্ত্রী খুব ভাল পর্যাপ্ত পরিমাণ কার্যক্রম করতে পারেনি তার মধ্যে একটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনেকে বলে ব্যর্থতার দিকে উনার আচরণ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবদিকে খেয়াল দিতে গিয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা খুব একটা ভালো দিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যুবশক্তির রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ভারতের শুভেন্দু অধিকারীর মতো লোক বলতেছে বাংলাদেশে ১০ হাজারের মতো লোক পুশইন করা হয়েছে। সেই লোকগুলো কোথায়? আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমাদের বিজিবি, বিডিআর তারা কেন বলতেছে না কতটুকু লোককে দেশে প্রবেশ করেছে। এটা জাতির জন্য খুবই একটা সিকিউরিটি থ্রেটেং।

সংসদ সদস্য বলেন, খবরে দেখতাল গতকালকে বাসার মধ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোন সমাজে বসবাস করছি, আইনশৃঙ্খলার এত অবনতি কেন। জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামি ঘুরে বেড়াতে দেখছি বিভিন্ন জায়গায়। আগের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই অর্থে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলাকে ভালো বলা যাচ্ছে না।

বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। সংসদ সরকার দলীয় যেখানে পেয়েছে কোটি টাকা। সেখানে ১০% দেয় বিরোধীদলকে ১০ লাখ টাকা। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটে নাই।

তিস্তা মহা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনা হয়নি। শুধু আশ্বস্ত করা হয়েছে। চায়না থেকে শুধু আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা করা হবে। আমরা তো আশ্বস্ত অনেক আগে থেকেই শুনেছি। রিয়েলি বলেন, কবে করতে চান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ। যেমন একনেকে পদ্মা ব্যারেজ হয়েছে সেটি ছয় মাসের মধ্যে তার ফাংশনের কাজ হবে।

কিন্তু মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ কবে হবে, সেটি সরকারকে জানিয়ে দেওয়া উচিত। একটা সময়সীমা দেওয়া দরকার, তাহলে আমরা বুঝব আপনাদের কথার সত্যতা আছে। তা না হলে মুলা ঝুলার মতো হবে। প্রতিনিয়তই নদী ভাঙছে। মানুষের আবাদি জমি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, সরকার এসব দেখছে না।

জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, সারা বাংলাদেশে যেভাবে আওয়ামী লীগ মিছিল করছে যেভাবে পুলিশ হত্যার হুমকি দিচ্ছে সেই ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখছি না। আওয়ামী লীগের যে তৎপরতা এই তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ একেবারেই নেই বললেই চলে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সরকার তাদের দুর্বলতা দেখিয়েছে শুধু পাঁচটি জেলায় সেনাবাহিনী নামিয়ে ছিল। এটার মাধ্যমে স্পষ্ট সরকার আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আসার রাস্তা ওপেন করে রেখেছে। এর মাধ্যমেই সরকারের কোনো ফায়দা হবে, আমরা বিশ্বাস করি না। বরং আওয়ামী লীগের ফিরে আসার যে রাস্তা ওপেন রাখা হয়েছে বিএনপির মাধ্যমে, সেটা বিএনপির বিরুদ্ধে হয়তো একটা বড় সংকট হাজির হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, সারা দেশে যেভাবে জননিরাপত্তা উদ্বেগ আমরা লক্ষ্য করছি, এটি যদি বাড়তে থাকে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের জায়গা থেকে সরকারের প্রতি যে ক্ষোভ, এক সময় উঘড়ে দিতে বাধ্য হবে। সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাব, যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে একলা চলোনীতিতে, সেই একলা চলোনীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। গতকালকে ও লক্ষীপুরে হয়েছে। আরো অনেক জায়গায় হচ্ছে, আমরা অনেক খবর পাই না। এ ধরনের পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে তো সারাদেশে একটা আতঙ্ক পরিস্থিতি তৈরি করবে। সেই আতঙ্ক নিরশনে সরকারের পক্ষ থেকে যেন একটা সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এই সরকার এই বাজেটে তরুণদের কোনো হিসাব রাখে নাই।

রংপুর জেলা জাতীয় যুবশক্তির আহবায়ক রাকিবুল হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুজ্জামান বাবু, মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা। সমাবেশ শেষে রাতে নগরীতে মাদকবিরোধী একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর যুবশক্তির সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকির।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...