গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন নামে আরেক শিবির কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল্লাহ বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি। আহত সালাউদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। পরে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্টরা উপজেলা চত্বর ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট পর বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পরিকল্পিত ভাবে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল, জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে। পরে সাইফুল্লাহ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। হামলার পর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সাইফুল্লাহকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা অভিযোগ করে বলেন, হামলার ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ এবং বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন সরাসরি জড়িত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
সাঘাটা থানার ওসি মাহাবুর রহমান একজনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

