সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছেড়েছেন।
তার প্রত্যাহারের আদেশ কার্যকর হওয়ার পর (আজ ২৩ জুন) মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। সোমবার বিকেলে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সিলেট ছাড়ার আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন সারওয়ার আলম। সেখানে তিনি লেখেন---
‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’
এর আগে গত রোববার হঠাৎ করেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়।
তবে প্রজ্ঞাপনে সারওয়ারকে প্রত্যাহারের কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের খবরে সিলেটে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে গত দুই দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘সিলেটের সর্বস্তরের জনগণ’–সহ বিভিন্ন ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
জামায়াতসহ কয়েটি ইসলামি দলও সিলেটের ডিসি সরওয়ারের প্রত্যাহার আদেশ বাতিলেে দাবি জানান।
তবে নীবরতা পালন করে বিএনপি। তবে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, 'আমরাও দরগাহ মাজারেরর আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা চাই। তা করতে হবে সব পক্ষকে নিয়ে।
সিলেটের ডিসিকে হঠাৎ প্রত্যাহার নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একাধিক সূত্র বলছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন সারওয়ার আলম। বিশেষ করে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসংক্রান্ত তার কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশও বিভিন্ন কারণে তার বিরোধিতা করছিল।
সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজার সংক্রান্ত ইস্যু জড়িত নয়:
এদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে কোনো মাজার সংক্রান্ত ইস্যু জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এর সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয়ও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সূত্রগুলো জানায়, ১২ জুন শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন সারওয়ার আলম। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে মাজারে দান সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।
পরে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সোমবার মাজারে স্থাপন করা দানবাক্স ও ডেক থেকে প্রাপ্ত অর্থ গণনা করা হয়। গণনার পর ৪ দিনেই সেগুলো থেকে প্রায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা নগদ ও ৭ ভড়ি সোনা ও কিছূ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। লাখ টাকা পাওয়া যায়।
এই টাকা কী করা হবে জানতে চাইলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীকালে এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসন দিলেন ৫ লাখ টাকা :
শাহজালাল (র.) মাজারের দানবক্সে পাওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকার সঙ্গে আরও ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি সোমবার এই ফান্ডের সঙ্গে মাজারের সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জেলা প্রশাসনের ফান্ড থেকে এই টাকা জমা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (র.)-এর নামে মাজারের সোনালী ব্যাংক হিসেবে ডিসি স্যার ১৭ লাখের সাথে আরো ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। এটা সহ বর্তমানে টাকার পরিমাণ ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ জন। এটা ওই সোনালী ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টেই জমা হইছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

