ডাকাত দলে ছিলেন র‍্যাবের সদস্য, অস্ত্র-ওয়াকিটকি-হ্যান্ডকাফসহ আটক ৫

ডাকাত দলে ছিলেন র‍্যাবের সদস্য, অস্ত্র-ওয়াকিটকি-হ্যান্ডকাফসহ আটক ৫
ছবি: সংগৃহীত

বনানীর ব্যস্ত সড়কে তখনও দিনের কর্মচাঞ্চল্য পুরোপুরি শুরু হয়নি। এর মধ্যেই একটি হায়েস মাইক্রোবাস ঘিরে অবস্থান নেয় গোয়েন্দা পুলিশের একটি বড় দল। মুহূর্তেই ধরা পড়ে পাঁচজন। তাদের কাছে পাওয়া যায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি ও পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত হ্যান্ডকাফ। ছিল কালো স্কচটেপ, শপিং ব্যাগও। সঙ্গে থাকা গাড়িটিও জব্দ করা হয়। পরে জানা যায়, আটক পাঁচজনের একজন কর্মরত র‌্যাব সদস্য। তার কাছ থেকে র‌্যাবের পরিচয়পত্র উদ্ধারের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে একটি সম্ভাব্য ডাকাতির ঘটনা ঠেকানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও সরঞ্জাম অপরাধে ব্যবহারের আশঙ্কাটিও সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বনানী থানার ব্লক-এ, ৪ নম্বর সড়কের খায়ের প্যালেসের সামনে এ অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডিবির প্রায় ৪৫ সদস্য অংশ নেন। পুলিশের ভাষ্য, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরই তারা সেখানে অবস্থান নেয়।

বিজ্ঞাপন

আটককৃতরা পাঁচজন হলেন—মো. মাসুদ রানা (২৯), মো. রাজিব হাওলাদার (৩০), হাফিজুল মাতব্বর (২৪), মোহাম্মদ শাকিল হোসেন (২৪) ও মো. বাদল (৪২)। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আটকের তথ্য জানান ডিবির প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

একসঙ্গে এতগুলো সরঞ্জাম পাওয়ার বিষয়টি সাধারণ অপরাধের চেয়ে পরিকল্পিত কোনো অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ। বিশেষ করে ওয়াকিটকি ও পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত হ্যান্ডকাফের উপস্থিতি তদন্তে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের সামনে তাই কয়েকটি প্রশ্ন—তারা কাকে টার্গেট করেছিল? ডাকাতির জন্য বনানীর ওই স্থানটিই কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল? তাদের পেছনে আর কেউ ছিল কি না? অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে? আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় বা সরঞ্জাম তারা কীভাবে সংগ্রহ করেছে?

ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক আটক পাঁচজনের একজনের র‌্যাব সদস্য হওয়ার তথ্য। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা র‌্যাব সদর দপ্তরের ডগ স্কোয়াড বিভাগে সৈনিক হিসেবে কর্মরত। একজন কর্মরত র‌্যাব সদস্য কীভাবে কথিত ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত হলেন—এটি এখন আলাদা করে তদন্ত করছে র‌্যাব। ডিবি গ্রেপ্তারের পর তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকালেই ঘটেছে এবং ডিবি ওই সদস্যকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকেও তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। একজন মেজরের নেতৃত্বে গঠিত ওই পর্ষদ বিষয়টি অনুসন্ধান করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

ডিবি বলছে, উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তলের উৎস বের করার চেষ্টা চলছে। অস্ত্রটি বৈধ কোনো উৎস থেকে এসেছে কি না, নাকি অবৈধভাবে রাজধানীতে ঢুকেছে—তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে পাঁচজনের অতীত রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের কারও বিরুদ্ধে আগে মামলা ছিল কি না, তারা পূর্বে কোনো অপরাধে যুক্ত ছিল কি না কিংবা আরও বড় কোনো চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না—এসব তথ্য সংগ্রহ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটকদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত ও আটকের অভিযান চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন