সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন অফিসার

ঢাকায় সাড়ে ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকায় সাড়ে ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা

ঢাকা জেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আওতায় ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৮ জুন সারা দেশের ন্যায় ঢাকা জেলাতেও এই ক্যাম্পেইন উদযাপিত হবে ।

মঙ্গলবার ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন ।

বিজ্ঞাপন

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ঢাকা জেলার ৬-১১ মাস বয়সী ৭৪ হাজার ১১৭ শিশুকে নীল রঙের (১,০০,০০০ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮২ শিশুকে লাল রঙের (২,০০,০০০ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই কার্যক্রম সফল করতে জেলায় মোট ১ হাজার ৭৪৩টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬১৮টি আউটরিচ কেন্দ্র এবং ১২৫টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটের মতো জনাকীর্ণ স্থানে ভাসমান শিশুদের জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্রগুলো কাজ করবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৪৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২৯২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত থাকবেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এটি শিশুর হাম, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের জটিলতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সরকার সরবরাহকৃত এই ক্যাপসুলগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন ডা. জিল্লুর। যার মধ্যে রয়েছে -শিশুকে অবশ্যই ভরাপেটে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে, কান্নারত অবস্থায় বা জোরপূর্বক ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না এবং ৬ মাসের কম বা ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের এই ক্যাপসুল দেওয়া হবে না । এছাড়া অসুস্থ শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর নিকটস্থ স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র থেকে ক্যাপসুল সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম বলেন, এই কর্মসূচি সফল করা কেবল রাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়; এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগ। সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে দেখা যায়, অনেক সচেতন বা উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুরা এই সুবিধার বাইরে থেকে যায়। তাই নিজের শিশুর পাশাপাশি আশেপাশের প্রতিবেশী বা গৃহকর্মীদের সন্তানদেরও এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, যখন আমরা থাকব না, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতির দায়িত্ব নেবে। তাই তাদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য শিশুর সুস্থতা ও পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই কোনো শিশু এই সুবিধার বাইরে যেন না থাকে।

উল্লেখ্য, দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬-৫৯ মাস বয়সী মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফারহানা কবীর, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান, ডা. রিফাত শামীম, ডা. নুরেন মুবাশশিরা প্রভা, ডা. ফাবলিনা নওশীন প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...