দেশের কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিয়েল এস্টেট, বস্ত্র, উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মোট ১,৫০৪ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান শেল্টেক গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যার বড় অংশই চুক্তিভিত্তিক কৃষিকাজের মাধ্যমে গড়ে উঠবে।
১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শেল্টেক গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের রিয়েল এস্টেট, নির্মাণ খাত,প্রিমিয়াম ওয়াল ও ফ্লোর টাইলস, বৈদ্যুতিক পোল, কৃষি, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাত, হসপিটালিটি সেক্টর এবং বিভিন্ন সেবাখাতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। গুণগত মান, সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তর, করপোরেট সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
গ্রুপটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগের একটি বড় অংশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগ, ব্যাংক ঋণ এবং বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে বাকি প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে।
শেল্টেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কৃষি ও রপ্তানিতে বড় উদ্যোগ
কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে গ্রুপটির স্পেনীয় যৌথ উদ্যোগ স্পেন বাংলাদেশ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড-এ ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সেখান থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানিও চলছে।
এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ হাজার কৃষককে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ২,৪৪০ কোটি টাকার রপ্তানি আয় অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিয়েল এস্টেটে নতুন সম্প্রসারণ
রিয়েল এস্টেট খাতে বনশ্রী এলাকায় শেল্টেক লিগ্যাসি প্লাজা নামে ১৭ তলা আধুনিক শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণে ৫৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রায় দুই লাখ বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস নিয়ে নির্মিতব্য এই ভবনটি আন্তর্জাতিক মানের LEED সনদপ্রাপ্ত গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া জলসিঁড়ি আবাসন এলাকায় যৌথ উদ্যোগে ২৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে ২১টি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
উৎপাদন ও বস্ত্র শিল্পে সক্ষমতা বৃদ্ধি
সিলেটে দেশের একমাত্র অ্যাব্রেসিভ পেপার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাইন্ডটেক লিমিটেড-এ ৮৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, বস্ত্র খাতে ব্লেন্ডেড সুতার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড প্রায় ১৭৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এই সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ
কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেল্টেক গ্রুপ তাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির টেকসই উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
বর্তমানে শেল্টেক গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা। নতুন প্রকল্পগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই টার্নওভার ৯,২০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
শেল্টেক গ্রুপের এই বহুমুখী বিনিয়োগ পরিকল্পনা শুধু শিল্প খাতেই নয়, কৃষি, রপ্তানি, কর্মসংস্থান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক অবদান রাখার পাশাপাশি এই বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


