সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। আজ সোমবার (১৯) জানুয়ারি এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত হলো শাকসু নির্বাচন।
এর আগে শাকসু নির্বাচনের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা। অপরদিকে, বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল গতকালের পর আজও নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে শাকসু নির্বাচন ইস্যুও রয়েছে।
সোমবার শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল দখল করা হয়েছে। তখন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু পরে সেই নীতিমালা বাতিল করা হয়। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং আমাদের ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের আবারও দোষ দেওয়া হবে।
এদিকে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে দেশব্যাপী কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট। শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত তারিখেই অর্থাৎ, অবশ্য অবশ্যই আগামীকালই অনুষ্ঠিত হতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ হুমকি কিংবা পেশিশক্তির কাছে নতিস্বীকার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিঘ্ন ঘটানো হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এর আগে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট আবেদনের প্রতিবাদ এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

