ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ওসমান হাদি হল (প্রস্তাবিত) অডিটোরিয়ামে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৫৩ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম স্থান অধিকারীকে ৩০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া নির্বাচিত সব বিজয়ীর হাতে নগদ অর্থ, সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি এবং অতীতে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাগুলো দেশের ছাত্ররাজনীতির একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। সময়ের ব্যবধানে অনেক ঘটনা হারিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও প্রতিরোধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অতীতের ঘটনাগুলোকে নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতায় জমা পড়া নির্বাচিত স্মৃতিচারণমূলক লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, অন্যায়, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ একটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি এবং নির্যাতনের ঘটনাগুলো কেবল ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প নয়, বরং একটি সময়ের বাস্তবতার দলিল। এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও স্বাধীন শিক্ষাঙ্গন গঠনে উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, ক্যাম্পাসজীবনের কিছু অধ্যায় অনেক শিক্ষার্থীর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতাগুলোকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সূর্য সেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সায়েদুজ্জামান আলভীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার, আনাস ইবনে মুনির এবং শহিদ ওসমান হাদি হল (প্রস্তাবিত) সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবাহ। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সহাবস্থানভিত্তিক শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

