কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম পুলিশি হামলার স্থান আনসার ক্যাম্প এলাকায় ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
ছাত্রদলের নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প এলাকায় পুলিশ বাধা দেয়। পরে সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।
পরদিন ১২ জুলাই ওই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে হামলার স্থান আনসার ক্যাম্প মোড়কে ‘ছাত্র আন্দোলন চত্বর’ হিসেবে নামকরণ করা হয়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই স্থানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হলে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসসংলগ্ন যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, সেসব স্থানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার বলেন, কুসিক প্রশাসক তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ৫ আগস্টের আগেই ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন মেস ও আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কুসিকের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করেছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

