কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান প্রকাশ করেছেন তার আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘লোকে বলে প্রেম, আমি বলি জ্বালা’। এ উপলক্ষে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজন করা হয় প্রকাশনা উৎসব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদি, রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপাসহ অনেকে।
সংগীতকে জীবনের সঙ্গে তুলনা করে বইটির নামকরণ করেছেন ফেরদৌসী রহমান। তার গাওয়া জনপ্রিয় একটি গানের চরণ থেকেই বইটির নাম নেওয়া হয়েছে।
বইটি সম্পর্কে ফেরদৌসী রহমান বলেন, ‘গানের প্রতি ভালোবাসাই হলো প্রেম, আর এই ভালোবাসার জন্য যে কঠিন শ্রম ও সাধনা করতে হয়েছে, সেটিই হলো জ্বালা। নিজে বিশেষ কোনো কাজ করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। তবে বইটিতে অনেক মানুষের কথা আছে, অনেক বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে, পুরোনো দিনের ঢাকা কেমন ছিল, তখনকার পরিবেশ, বিভিন্ন খাবার, ঢাকার কোথায় কী হতো, যা এখন আর নেই, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নানা আচার-অনুষ্ঠান—এসব বিষয় এতে স্থান পেয়েছে। বইটি পড়লে সেসব জানা যাবে।’
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ফেরদৌসী রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন ও সংগীতজীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তার দীর্ঘদিনের সহশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। ফেরদৌসী রহমানকে বাংলা সংগীতের ‘হিমালয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আধুনিক, নজরুলসংগীত, ধ্রুপদি ও পল্লীগীতিসহ সব ধারার সংগীতে তার সমান দক্ষতা উপমহাদেশে বিরল।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী অনুপমা মুক্তি ফেরদৌসী রহমানের জনপ্রিয় দুটি গান—‘লোকে বলে প্রেম’ এবং ‘আমি সাগরের নীল নয়নে মেখেছি’—পরিবেশন করেন।
১৯৪১ সালের ২৮ জুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে জন্মগ্রহণ করেন ফেরদৌসী রহমান। পল্লীগীতির সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের কাছেই তার সংগীতে হাতেখড়ি। ১৯৪৭ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে তার কণ্ঠে গাওয়া গান প্রচারিত হয়। দেশভাগের সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে এসে ঢাকার ঋষিকেশ দাশ লেনে বসবাস শুরু করেন।
১৯৬০ সালে ‘আসিয়া’ চলচ্চিত্রে প্রথম নেপথ্য কণ্ঠ দেন তিনি। ষাট ও সত্তরের দশকের বহু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। তার প্লেব্যাক করা চলচ্চিত্রের সংখ্যা প্রায় ২৫০টি।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন ফেরদৌসী রহমান। ১৯৭৭ সালে সেরা সংগীত পরিচালক হিসেবে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, চুরুলিয়া নজরুল স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই গুণী শিল্পী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

