বিতর্কের মুখে প্রাথমিকের পাঠাগারে তিন বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার

বিতর্কের মুখে প্রাথমিকের পাঠাগারে তিন বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

বিতর্কের মুখে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিনটি বই সংরক্ষণের নির্দেশনা বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোশন আরা পলি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আগের এই নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অফিস আদেশে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক ৩টি বইয়ের সমন্বয়ে এক সেট বই সংরক্ষণের জন্য গত ৩ জুনের পত্রটি নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর অগোচরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ইচ্ছায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক শুরু হলে অবশেষে সোমবার নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী সোমবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন যে, মন্ত্রণালয় ওই নির্দেশনাপত্রটি বাতিল করেছে।

জানা গেছে, গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পঠনের জন্য উক্ত বইগুলোর অন্তত এক সেট সংগ্রহ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) নির্দেশনাপত্র দেওয়া হয়েছিল। ডিপিই-ও তা বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠায়। বইগুলোর মধ্যে দুটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনভিত্তিক এবং অন্যটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা। বইগুলো জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত।

সরকারি বিদ্যালয়ে এভাবে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বই বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষাবিদদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “স্কুল পাঠাগারে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার নয়, বরং দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতার বই থাকা উচিত। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য ভারসাম্য থাকা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমানের অবদান ও ইতিহাস শিক্ষার্থীরা জানতে পারে, তা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু মওলানা ভাসানী, জেনারেল ওসমানী বা অন্য জাতীয় নেতাদের কেন বাদ দেওয়া হলো? নতুন প্রজন্ম যথেষ্ট বুদ্ধিমান, তারা সব ধরনের তথ্য জানলে নিজেদের মতো করে বিচার করতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একতরফা রাজনৈতিক বয়ান প্রচারের কেন্দ্র না করে সবার অবদান তুলে ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।”

প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন সরকারের আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বই বা ছবি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর লেখা বই ও উপকরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করা এবং পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠাগার হলো জ্ঞান অর্জনের জায়গা। সেখানে কোনো বিশেষ মতাদর্শ চাপিয়ে না দিয়ে দেশের সামগ্রিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানোই হওয়া উচিত সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...