চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে অবশেষে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসা চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন। এরপর যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল বুধবার গভীর রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক নাজিমুল হক।
জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছিল। গত দুই সপ্তাহে তাঁকে ধরতে ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানও পরিচালিত হয়েছিল। এছাড়া তাঁর বাহিনীর একাধিক সহযোগী গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা নাজিমুল হক বলেন, “সন্ত্রাসমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। তাঁকে চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্য সহযোগীরাও আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। তাঁদেরও অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তাঁকে ধরতে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হয়।
কর্মকর্তারা বলছেন, ডেভিড ইমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্রের জোগান, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য মিলতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু ডেভিড ইমনই নন, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পলাতক ও সক্রিয় সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

