এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যত বাধা

408
কাওসার আলম

এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যত বাধা

দেশে কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট রয়েছে। প্রতি বছরই ২০-২২ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান না থাকায় এর বড় একটি অংশ বেকার অথবা প্রচ্ছন্ন বেকার হিসেবে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে নতুন এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে বলে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কিন্তু বিরাজমান ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আর্থিক খাত, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ৮০ লাখের মতো নতুন কর্মসংস্থান তৈরির একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। রূপরেখা অনুযায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হবে বেসরকারি খাতের হাত ধরেই। এর মধ্যে সেবা, শিল্প ও কৃষিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরে প্রায় পাঁচ লাখ পদ খালি রয়েছে। সেসব পদে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন আরো ১৫ লাখ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টিও রয়েছে তালিকায়। সব মিলিয়ে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় সাত কোটি লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামী পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০৩১ সালের মধ্যে নতুন ৮০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কৃষিতে তিন কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিয়োজিত। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে আরো ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্প খাতে এক কোটি ২০ লাখ লোক নিয়োজিত রয়েছেন। এ খাতে ২৫ লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ সংখ্যা এক কোটি ৪৫ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে সেবা খাতকে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এ খাতে দুই কোটি ৬০ লাখ কর্মসংস্থান রয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে বিএনপি সরকারের লক্ষ্য এ খাতে আরো ৪০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা। সেবা খাতের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংক ও পরিবহন খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আমার দেশকে বলেন, কর্মসংস্থান তৈরিতে বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যে ধরনের নীতি ও সুবিধা প্রয়োজন, সেগুলোর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। নীতির ধারাবাহিকতার জন্য বাজেটে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কর কাঠোমো ঘোষণা করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ফসিল ফুয়েলের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু করা, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং সহনশীল দর রাখা হয়েছে। অর্থায়নের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ ধরনের তহবিল এর আগে কখনো গঠিত হয়নি। যোগাযোগব্যবস্থার জন্য রেলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্যার্জনে আমাদের মডেল ও কৌশল রয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র শিল্প থেকে শুরু করে মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পÑসব খাতের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে আমাদের করণীয় বিষয়গুলো সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্প ও সেবা খাতে আমরা কী করতে চাই, সেগুলোর পথনকশা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে।

বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সংকটকালে দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে আনার বিষয়ে অতীতে বিএনপি সফলতা দেখিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা খালেদা জিয়াÑদুজনই সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করেছিলেন। সাধারণ মানুষের সে আস্থা বিএনপি সরকারের প্রতি রয়েছে। এ কারণে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে সমর্থ হয়েছে বিএনপি। সুতরাং অতীতের রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে আমরা বলতে চাই, আমাদের যে লক্ষ্য, সেটা অর্জন করতে সক্ষম হব।

জিইডি সদস্য ড. মনজুর হোসেন আমার দেশকে বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রায় এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বিনিয়োগের পরিমাণ হবে জিডিপির ৪০ শতাংশ। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের একটি বড় লক্ষ্যই হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

নতুন কর্মসংস্থানের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, এটিই চূড়ান্ত, বিষয়টি এমন নয় উল্লেখ করে জিইডির এই সদস্য বলেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর এটা রিভিউ করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর সংখ্যা বাড়তে পারে কিংবা কমতেও পারে। তবে এখন নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এজন্য কর্মসংস্থানসম্পর্কিত বেশকিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার রুগ্ন শিল্পের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ ঘোষণা করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে এটিও সরকারের উদ্যোগের একটি অংশ।

তিনি আরো বলেন, সরকার বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য বড় ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও করছাড় দিয়েছে। নতুন খাত হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সরকার যেসব প্রকল্প নিয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমেও কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষতা বৃদ্ধি। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরিও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে বর্তমানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানি সংকট বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। গত ১৮ জুন বিডা কার্যালয়ে কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাতারাতি এ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটবে না। সংকট মোকাবিলায় এখনো যদি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যাবে। বিডা চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যে দেশে বিনিয়োগ সংকটের বাস্তবতা উঠে এসেছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখন ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি ২০ বছরের আগের অবস্থানে রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগের জন্য শক্ত আর্থিক ভিত্তি ও আর্থিক সেক্টরের প্রয়োজন। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে পারে, স্বাধীনভাবে ঋণ দিতে পারে, সেটা দেখার বিষয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সরকার থাকে সহায়ক ভূমিকায়। কিন্তু বিনিয়োগের জন্য সুদের হার মোটেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নেই। মূল্যস্ফীতি যেখানে ৯ শতাংশের বেশি, সেখানে সুদের হার কমিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং সরকারকে আগে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে হবে। সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ছে। আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে সরকারকে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিকে নানাভাবে প্রভাবান্বিত করছে। সামষ্টিক চাহিদার চেয়ে যদি উৎপাদন বাড়ানো না যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়।

চলতি বছর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, সরকার আর্থিক খাতকে কতটা শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হবে, তার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো।

তিনি আরো বলেন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রপ্তানিতে বড় ধরনের গতি প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগেও বড় ধরনের গতি প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আরো কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিনিয়োগে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সোলার প্যানেল এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা করা হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। ফলে জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিক খান আমার দেশকে বলেন, কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ হবে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও সেবা খাতে যদি বিনিয়োগ বাড়ে, তাহলে অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেও বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়াতে হলে চারটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলোÑজ্বালানি ও অবকাঠামো নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী এগুলোর সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সামষ্টিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার।

তিনি আরো বলেন, নিয়মিত তথ্যউপাত্তও এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের পর আর শ্রম জরিপ হয়নি। ওই জরিপে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ২১ লাখ লোকের চাকরি কমে গেছে। বর্তমানে শ্রমবাজার পরিস্থিতি কেমন, সেটা আমাদের জানতে হবে। আগে নিয়মিতভাবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে শ্রমবাজারের তথ্য প্রকাশ করা হতো। এখন আবার সেটি করা দরকার। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জিডিপির সঙ্গে কর্মসংস্থানের তথ্যও প্রকাশ করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সরকার সঠিকভাবেই কর্মসংস্থানের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির চেয়ে শোভন কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সিপিডির এই গবেষক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ খরাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে কর্মসংস্থান সংকট মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশে কর্মসংস্থান সংকটের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষার অভাব এখন প্রকট। মানসম্মত শিক্ষার অভাবেও তরুণরা চাকরি পাচ্ছেন না। গত কয়েক দশকে ‘চাকরিহীন প্রবৃদ্ধি’ তৈরি করেছে। প্রতি দশকেই আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অন্তত ১ শতাংশ হারে বেড়েছে কিন্তু সে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার তাল মেলাতে পারেনি। ফলে কর্মসংস্থান এখন একটি সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বেসরকারি বিনিয়োগ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে আটকে আছে আর বৈদেশিক বিনিয়োগ জিডিপির ১ শতাংশেরও কম। এত কম বিনিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি আশা করা যায় না। সরকারি খাত সামান্য কিছু কর্মসংস্থান তৈরি করছে কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন