কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার

কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কার্বন নিঃসারণ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞাপন

সভায় প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

তিনি কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন।

সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, কার্বন নিঃসারণ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ আরও বাড়বে।

কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যবহৃত একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসারণ কমানো কিংবা অপসারণের বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, কার্বন ট্রেডিং হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসারণ নিয়ন্ত্রণে বাজারভিত্তিক একটি ব্যবস্থা। এতে সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন নিঃসারণের সীমা নির্ধারণ করে। নির্ধারিত সীমার বেশি নিঃসারণ হলে অতিরিক্ত কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়। আর যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্বন নিঃসারণ কমায় বা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে, তারা কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারে। পরবর্তীতে এসব ক্রেডিট অতিরিক্ত কার্বন নিঃসারণকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যায়।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন