জুলাই আন্দোলনের চেতনা যেন নষ্ট না হয়: হুইপ নিজান

সংসদ রিপোর্টার

জুলাই আন্দোলনের চেতনা যেন নষ্ট না হয়: হুইপ নিজান

জুলাই আন্দোলনের চেতনা যেন কোনো আমলা, সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করা শুধু ভাতা বা ঘোষণার মধ্যে সীমিত থাকলে চলবে না; প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও সেই চেতনার প্রতিফলন থাকতে হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজান বলেন, কোরবানির ঈদের আগে তিনি সেখানে যান।

তিনি বলেন, এক তরুণ হুইলচেয়ারে বসে আছে। ওই জুলাই যোদ্ধার পাশে একজন তরুণী। আমি ভেবেছিলাম হয়তো বোন কিংবা কোনো আত্মীয় হবেন।

কথা বলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তরুণীটি ওই জুলাই যোদ্ধার স্ত্রী। আমি বললাম, কবে বিয়ে হয়েছে? বলে যে ৩৬ জুলাইয়ের পরে।

আবু সাঈদ নিহত হওয়ার দিন ওই তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিচ্ছিল। তখন তরুণী তার বাবাকে বলেছিলেন, তিনি একজন শহীদ বা পঙ্গু জুলাই যোদ্ধার স্ত্রী হতে চান।

ওই জুলাই যোদ্ধার চাকরির প্রসঙ্গ তুলে নিজান বলেন, তিনি এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

“দুঃখের বিষয় কী জানেন? এনটিআরসিতে উনি তখন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছিলেন। একজন ইউএনও সাহেবের কাছে গেলেন যে আমার স্বামী ব্যাংককে যাবে। উনি বলেছেন, আপনাকে জয়েন করতে হবে। উনি জয়েন না করে চলে গেছেন।”

জুলাই আন্দোলনের চেতনা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে নিজান বলেন, “যেমন আমরা একাত্তরকে বুকে লালন করতে পারিনি, ধারণ করতে পারিনি, বারবার মিথ্যা চেতনার কথা বলেছি, কোনো ক্রমে এই জুলাইয়ের চেতনা যেন কোনো আমলা হোক, এমপি হোক, মন্ত্রী হোক, কারো কারণে নষ্ট না হয়।”

সংসদের বাজেট আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল এবার গঠনমূলক আলোচনা করছে। আমি কখনো দেখি নাই সরকারি দল, বিরোধী দল এত গঠনমূলক আলোচনা করতে।

গণতন্ত্রের প্রথম কথা ধৈর্য এবং ইসলামী রাজনীতির প্রথম কথা সবর মন্তব্য করে নিজান বলেন, “এই দিকেও সবর আছে, ওই দিকেও পেশেন্স আছে। এজন্য দুই দিককেই আমি ধন্যবাদ জানাই।”

জুলাইয়ের পর প্রতিহিংসায় না যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে নিজান বলেন, ৩৭ জুলাইতে উনি পল্টনের জনসভায় বলেন, আমরা এমন কোনো কাজ করব না, যে কাজে অন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নিজান বলেন, কেউ কেউ ভয় দেখিয়েছিলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে বহু মানুষ খুন হবে; কিন্তু তা হয়নি। আপনারা জানেন, আমাদের এই দল, এই পাশ বা ওই পাশের কারো নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের কেউ হত্যা হয়নি, খুন হয়নি।

আন্দোলন-সংগ্রামে সহায়তা করা বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও অ্যাকটিভিস্টদের মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা কোথায়? আপনারা কি মনে করেন উনারা চলে গেছেন? উনারা কিন্তু উনাদের মনোজগতে এখনো সেই কথাই আছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের সতর্ক করে নিজান বলেন, তারা যেন এমন কিছু না করেন যাতে বিএনপি ও তার নেতৃত্ব মানুষের কাছে অপমানিত হয়। আমরা যারা এই পাশে বসে আছি, আমরা যারা ক্যাবিনেটে আছি, আমরা যারা উনার পাশে থাকি, আমাদের প্রথম সততার সাথে, নিষ্ঠার সাথে শপথ গ্রহণ করতে হবে যে না, এমন কোনো কাজ আমরা করব না, যে কাজে বিএনপি এবং বিএনপির নেতা মানুষের কাছে কখনো অপমানিত হন।

১৭ বছরের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের জন্য প্রকল্প নেওয়ার দাবিও জানান তিনি। বলেন, এই পাশে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের যে কর্মীরা, ওদের জন্য ব্যবস্থা করা উচিত। তখনই হবে আমার নেতা তারেক রহমানের সবার উপরে বাংলাদেশের যে আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষা পূরণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...